নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলায় দায়ের করা একটি মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে বাড়িছাড়া হয়ে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী হেপি আক্তারের পুরো পরিবার।
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, স্থানীয় প্রতিবেশী কামাল হোসেন (৪২), তাঁর ভাই সেলোয়ার হোসেন (৪৫), মোফাজ্জল (৩৮), তাঁদের ভাতিজা আলীম (২৬) এবং বারহাট্টা উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজন ব্যক্তিকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত কামাল হোসেনের পরিবারের সঙ্গে হেপি আক্তার ও তাঁর লোকজনের বিরোধ চলে আসছিল। এই দীর্ঘ বিরোধের জেরে গত ২২ সেপ্টেম্বর কামাল হোসেনসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা হেপি আক্তারকে শারীরিকভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওই হামলার ঘটনার ঠিক পরের দিনই হেপির স্বামী বাদী হয়ে থানায় অভিযুক্ত কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মারধরের মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ও আইনি প্রক্রিয়া পেরিয়ে সেই মামলাটি বর্তমানে দেশের একটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
হেপি আক্তার অভিযোগ করে জানান, চলমান ওই মামলাটি পারস্পরিক আপসের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করে ফেলার জন্য গত রোববার অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন।
পূর্বের এই হুমকির রেশ ধরে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে অভিযুক্ত কামাল হোসেন ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সরাসরি হেপি আক্তারের বাড়িতে এসে হানা দেন।
সে সময় অভিযুক্তরা অত্যন্ত ত্রাসের সৃষ্টি করে তাঁদের বসতঘরের দরজা এবং জানালার বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালান।
ভাঙচুরের পাশাপাশি তাঁরা হেপি আক্তারের বাড়িতে থাকা পুরোনো একটি বসতঘরে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেন, যা মুহূর্তেই ছাই হয়ে যায়।
এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে তাঁদের প্রায় তিন লাখ টাকার সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে ভুক্তভোগী হেপি আক্তার গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের কাছে সুনির্দিষ্ট দাবি করেছেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর