ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পৃথিবীর মহাকর্ষ জালে বন্দি হলো নতুন ছোট চাঁদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 7, 2026 ইং
পৃথিবীর মহাকর্ষ জালে বন্দি হলো নতুন ছোট চাঁদ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

আমাদের গ্রহ এবং পরিচিত একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহটির মধ্যকার সংযোগ অত্যন্ত সুপ্রাচীন। শক্তিশালী টানের জেরে সেই গ্রহ নিজের মহাকর্ষ বল প্রয়োগ করে সম্প্রতি অন্য একটি ছোট মহাকাশীয় বস্তুকে ক্ষণস্থায়ীভাবে বেঁধে ফেলেছে, যা চলতি বছরের বড়দিন পর্যন্ত আকাশে দৃশ্যমান থাকবে।

আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্ষুদ্র শিলাখণ্ডটির সাংকেতিক পরিচিতি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। চলতি বছরের অষ্টম মাসের শুরুতে গবেষকদের নজরে আসে এই মহাকাশখণ্ডটি। এর আগে বসন্তকালের একটি সময়ে এটি গ্রহটির বৃত্তাকার পথে এসে পৌঁছায়। বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করা সংস্থাটির বিশেষ কার্যালয় থেকে এই নতুন আবিষ্কারের সংবাদ সকলের সামনে আনা হয়।

স্বল্পকালীন এই অবস্থানের স্থায়িত্ব নির্ধারিত রয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবে আটকা পড়ে এটি বছরের শেষ পর্যন্ত আমাদের গ্রহকে প্রদক্ষিণ করবে এবং পরবর্তীতে নতুন বছরে মহাশূন্যে ছিটকে দূরে চলে যাবে। গবেষকদল এই বস্তুটির কক্ষপথের পুরোনো গতিপথ নতুন করে বিশ্লেষণ করেছেন।

বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, সূর্যকে একবার ঘুরে আসতে ওই শিলাটির দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। সময়কালটি আমাদের গ্রহের বার্ষিক সময়ের প্রায় কাছাকাছি। প্রতি দশকে একবার এই বস্তুগুলো খুব কাছাকাছি অবস্থান করলেও এবার বিশেষ কারণে গ্রহের টানে সেটি আটকা পড়েছে।

সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে কম দূরত্বের সময়ে এটি বিশাল ব্যবধান বজায় রেখে কাছাকাছি এসেছিল। এই ব্যবধান পরিচিত উপগ্রহটির স্বাভাবিক গড় দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি। যদি এই মহাকাশখণ্ডটি সোজা গ্রহের ওপর আছড়ে পড়ার মতো অবস্থানেও আসত, তবুও ঘন বায়ুমণ্ডলের ছোঁয়ায় সেটি মাটিতে পৌঁছানোর আগেই পুরোপুরি পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যেত।

মাত্র সামান্য আকৃতির এই বস্তুটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করলে একটি দ্যুতিময় গোলকের রূপ ধারণ করত। বায়ুমণ্ডলে পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ার মতো উপযুক্ত গঠনাকৃতি রয়েছে এই পাথরের।

গ্রহের নিজ কক্ষপথে এই ধরনের ছোট অতিথি আটকে পড়ার ঘটনা নতুন কোনো বিস্ময় নয়। বিগত বছরগুলোতেও অনেকবার এমন ক্ষণস্থায়ী উপগ্রহের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পূর্ববর্তী গবেষণা ইঙ্গিত দিয়েছিল যে যেকোনো মুহূর্তে একাধিক এমন বস্তু আমাদের গ্রহকে প্রদক্ষিণ করতে পারে, যার অনেকগুলোই পরিচিত চাঁদের বিচ্ছিন্ন অংশ হতে পারে।

খুব ক্ষুদ্র হলেও এটি সাধারণ মানের অস্থায়ী উপগ্রহের চেয়ে কিছুটা বড় আকৃতির। এ বছরের শুরুর দিকে তৈরি করা মডেলের মাধ্যমে জানা গেছে এগুলোর স্বাভাবিক স্থায়িত্বকাল নির্দিষ্ট কিছু মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

যদি এটি বসন্তকালে ধরা পড়ে থাকে, তবে শীতকালের মাঝামাঝি সময়ে মহাশূন্যে হারিয়ে যাওয়ার কথা। গবেষকদের মতে, নির্দিষ্ট পরিমাপের চেয়ে বড় কোনো মহাকাশখণ্ড আটকা পড়লে তা দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করতে পারে। ছোট আকারের শিলাগুলো খুব সহজেই মহাকর্ষের জালে বন্দি হয়।

মহাকাশের এই ক্ষুদ্র বস্তুগুলো নির্দিষ্ট সময় বৃত্তাকারে ঘুরে পুনরায় মহাশূন্যের গভীরে মিলিয়ে যায়। এই ধরনের খণ্ডগুলোর কাছাকাছি উপস্থিতি গবেষকদের জন্য গ্রহাণুর গতিপথ অনুধাবন করা সহজ করে তোলে।

কোনো রকম ক্ষতি সাধন না করে এই বস্তুগুলো কেবল মহাকর্ষীয় টানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অতিথি হয়ে আসে। ছুটির দিনের উৎসবে এই নতুন মহাকাশীয় অতিথি তার কক্ষপথের নির্দিষ্ট যাত্রা সম্পন্ন করবে এবং পরবর্তীতে অসীম শূন্যতায় হারিয়ে যাবে।

বস্তুর সুনির্দিষ্ট গতিবিধি পর্যালোচনার জন্য বিশেষজ্ঞরা বিশেষ কম্পিউটার প্রোগ্রাম ব্যবহার করে থাকেন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাশূন্যের যেকোনো বস্তুর কক্ষপথ নিখুঁতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভবপর হয়।

আলোচ্য বস্তুর ক্ষেত্রেও এর কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। বিজ্ঞানীরা এর পূর্ববর্তী গতিপথ ট্র্যাক করে দেখেছেন কীভাবে এটি সূর্যের চারদিকে ঘোরার সময় নির্দিষ্ট প্রভাবে দিক পরিবর্তন করেছে।

মহাকাশের ভেতরে চলাচলকারী এই বস্তুগুলোর ওপর নজরদারি করা বিজ্ঞানীদের অন্যতম মূল কাজ। চারপাশের পরিবেশ দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। কৃত্রিম উপগ্রহ এবং মহাকাশ আবর্জনার ভিড়ে এই প্রাকৃতিক শিলাগুলোও কক্ষপথের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

ক্ষুদ্র চাঁদের এই ধারণাটি সাধারণ মানুষের মনে বরাবরই প্রবল আগ্রহের সৃষ্টি করে। রাতের আকাশে দৃশ্যমান চাঁদ আমাদের চিরদিনের সঙ্গী হলেও এই অস্থায়ী বস্তুগুলো খালি চোখে দেখার সুযোগ নেই।

খুব ক্ষুদ্র আকৃতির হওয়ায় কেবল শক্তিশালী আলোকযন্ত্রের মাধ্যমেই এগুলোর উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়। বর্তমান আবিষ্কারের ক্ষেত্রেও সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতির সহায়তা নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এই ধরনের আবিষ্কারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট নিয়মাবলী ও নীতিমালার আলোকেই নামকরণ এবং তথ্য প্রকাশের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নওগাঁয় স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ

নওগাঁয় স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ