নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার অন্তর্গত ইসিবি চত্বর এলাকায় অবস্থিত নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আজকের দিনে বিকেল চারটার দিকে এই হামলার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ডিউটি অফিসার মো. আরিফ গণমাধ্যমকে জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন কল পেয়ে এক ব্যক্তিকে আটকে রাখার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়। এই সংবাদ পাওয়ার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য সেখানে যান।
ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের স্বত্বাধিকারী মো. নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া অভিযোগ করেন যে, তাঁর মালিকানাধীন এই আবাসন প্রকল্পে একদল দুর্বৃত্ত পুনরায় হামলা চালিয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতেও নিউগিনি প্রপার্টিজের এই আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর চালানো হয় এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়।
পরবর্তীতে ওই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের প্রকাশ করা একটি ভিডিও ইন্টারনেট দুনিয়ায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
আলোচিত ওই হামলার ঘটনার অন্যতম প্রধান ‘সমন্বয়ক’ হিসেবে চিহ্নিত মো. যুবরাজকে এখনো ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বা ডিবি গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি অনুযায়ী, মিরপুর এলাকার দুটি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী দলের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে এই হামলার পুরো সমন্বয় করেছিলেন ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম ওরফে ‘কিলার’ ইব্রাহিমের বাহিনীর সদস্য মো. যুবরাজ।
তদন্তের সঙ্গে যুক্ত সূত্র আরও জানায় যে, গত ২৬ সেপ্টেম্বরের হামলার দিন ইসিবি চত্বরের একটি স্থানীয় খাবারের হোটেলে বসে মোট ১৩ জন ব্যক্তি এই নাশকতার গোপন পরিকল্পনা করেছিলেন।
ওই সময়ে এই মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ মো. ইব্রাহিমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে হামলা চালানোর জন্য এক কোটি টাকার একটি বিশাল অঙ্কের আর্থিক চুক্তি সম্পন্ন করেন।
পরবর্তীতে ইব্রাহিম নিজে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন সংগ্রহ করে সেই হামলার মূল দায়িত্বটি অর্পণ করেছিলেন যুবরাজের ওপর।
আলোচিত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হামলার পরিকল্পনা এবং সরাসরি অংশগ্রহণের অপরাধে এ পর্যন্ত আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ইতোমধ্যে আটজন আসামি আদালত থেকে আইনি প্রক্রiyay জামিন লাভ করে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, এই ন্যক্কারজনক হামলায় সরাসরি জড়িত আরও ৯ জন অপরাধীকে ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে জোরালো চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর