নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
শনিবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মন্তব্য করেন। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় ছাত্রশক্তির ওই শাখার পক্ষ থেকে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজনৈতিক নেতা নাহিদ ইসলাম ৭ নভেম্বরকে বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয় পালনের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকেও কেন বিপ্লব বলা হবে না। বর্তমান সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন যে নিজেদের অনুকূলে থাকা ঘটনাকে তারা বিপ্লব বলে এবং নিজেদের নেতৃত্ব ও পক্ষে না থাকায় জুলাইয়ের ঘটনাকে কেবল আন্দোলন বা গণ-অভ্যুত্থান বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। তবে তিনি নিজে ৭ নভেম্বর এবং জুলাই উভয়কেই বিপ্লব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানান।
১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রধান অতিথি আরও বলেন যে সে সময়ে বাকশাল প্রতিষ্ঠা ও রক্ষীবাহিনীর মাধ্যমে জনগণের ওপর চালানো নিপীড়ন এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করার বিরুদ্ধে সিপাহি ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামরিক ও জনগণের অভ্যুত্থান সম্পন্ন করেছিল।
আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ছাত্র, শ্রমিক, সিপাহি ও জনতার অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি জানান যে জুলাইয়ের গণবিপ্লব হঠাৎ বা ৩৬ দিন কিংবা মাত্র ১৬ বছরে তৈরি হয়নি। এর পেছনে বিগত একশ বছরের ইতিহাস রয়েছে যেখানে বাংলাদেশের মানুষ বারবার শোষণ ও শাসনের বিরুদ্ধে মানবিক মর্যাদা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রুখে দাঁড়িয়েছে।
জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন যে মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি রোধ, দুর্নীতি দমন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করাই ছিল মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের এসব মূল্যবোধ লালন করার পাশাপাশি সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন যে আবাসন, যাতায়াত এবং শ্রেণিকক্ষের সংকট দূর করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে এগিয়ে আসতে হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে উচ্চশিক্ষালয়গুলোর গুরুদায়িত্ব রয়েছে। ছাত্ররাজনীতির প্রকৃত স্বরূপ ব্যাখ্যা করে তিনি উল্লেখ করেন যে শুধু ফুল দিয়ে বরণ করাই ছাত্র সংগঠনের কাজ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নানা দাবি ও সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরি করা উচিত।
আসন্ন ডিসেম্বর মাসকে প্রতিরোধের মাস হিসেবে ঘোষণা করে তিনি বিগত দুই বছরে ওসমান হাদি হত্যাসহ জুলাইয়ের সব শহীদ ভাইবোনের হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন যে জনগণ ন্যায়বিচার না পেলে নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং একাত্তর ও চব্বিশের মতো ছাব্বিশ সালেও বিজয় অর্জন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর