নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ছোটবেলার বহু ঘটনা আমাদের মস্তিষ্কে সংরক্ষিত থাকলেও বড় হওয়ার পর আমরা কেন সেগুলোর বেশিরভাগই মনে করতে পারি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা কৌতূহল। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপক নিক তুর্ক-ব্রাউন এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানিয়েছেন, এটি মূলত একটি রহস্যময় পুস্তকের মতো। বইটির বিষয়বস্তু আমাদের মস্তিষ্কে ঠিকই জমা থাকে, কিন্তু সেটি পড়ার নির্দিষ্ট চাবিটি আমাদের হাতে থাকে না।
শৈশবের স্মৃতি হারিয়ে যাওয়ার এই রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরীক্ষাও চালিয়েছেন। ইঁদুরের ওপর পরিচালিত এমনই একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিজ্ঞানীরা বিশেষ আলোর সাহায্যে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুপথকে উদ্দীপিত করে তাদের হারিয়ে যাওয়া শৈশবের স্মৃতিগুলো সফলভাবে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন।
মস্তিষ্কের পূর্ণাঙ্গ পরিপক্বতা অর্জন ছাড়াও আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ শৈশবের স্মৃতি মুছে যাওয়ার পেছনে কাজ করে থাকে। এর মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হলো ভাষা জ্ঞানের অভাব। জীবনের সেই প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা কথা বলা রপ্ত করতে পারি না, যার ফলে জীবনের নানা ঘটনাকে শব্দ কিংবা সুনির্দিষ্ট গল্পের আকারে সাজিয়ে তা স্মৃতিতে ধরে রাখা তখন বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
স্মৃতি ধরে রাখতে না পারার পেছনে আরও একটি বড় কারণ হলো আত্মপরিচয় বা নিজেকে সঠিকভাবে চেনার বয়স না হওয়া। জীবনের প্রথম বছরগুলোতে মানুষের মধ্যে নিজস্ব কোনো শক্ত আত্মপরিচয় কিংবা 'আমি কে' এই ধরনের মৌলিক বোধ সম্পূর্ণভাবে গড়ে ওঠে না। আর এই আত্মচেতনার অনুপস্থিতির কারণেও মস্তিষ্ক দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতিগুলো সহজে সংরক্ষণ করতে পারে না।
সব মিলিয়ে সংক্ষেপে বিচার করলে দেখা যায়, আপনি হয়তো আপনার ছোটবেলার কোনো জন্মদিনের কেক কাটার দৃশ্য বা মুহূর্ত একেবারেই মনে করতে পারছেন না। তবে এর মোটেও এই অর্থ দাঁড়ায় না যে আপনার মস্তিষ্ক সেই গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যটি রেকর্ড বা সংরক্ষণ করেনি।
আপনার জীবনের সেই প্রথম অধ্যায়ের সুপ্ত ও লুকানো স্মৃতিগুলো আজও অবিকল ও অক্ষত অবস্থাতেই রয়ে গেছে আপনার মস্তিষ্কের কোনো এক গোপন কুঠুরিতে। হয়তো কেবল সেই কুঠুরি খোলার একমাত্র চাবিটাই সময়ের অবিরাম স্রোতে কোনো এক অজানা কারণে হারিয়ে গেছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর