ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিন আসামির বিচার শুরু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 8, 2026 ইং
জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিন আসামির বিচার শুরু ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেনকে হত্যা করার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিযুক্ত তিনজন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ রবিবার দুপুরের দিকে ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম এই অভিযোগ গঠনের আদেশ প্রদান করেন। একই আদেশে আদালত আগামী ৯ ডিসেম্বর মামলার বাদী ও অন্যান্য সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের নির্দিষ্ট দিন ধার্য করেছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন সংবাদমাধ্যমকে আদালতের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুনানির সময় তিন আসামির পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবীরা তাঁদের মক্কেলদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে বিজ্ঞ আদালত সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন।

এই মামলায় অভিযুক্ত তিন আসামি হলেন নিহত জোবায়েদের শিক্ষার্থী ১৯ বছর বয়সী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, একই বয়সের মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ২১ বছর বয়সী ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। বর্তমানে এই তিনজন আসামিই গ্রেপ্তারকৃত অবস্থায় কারাগারে আটক রয়েছেন।

আজ রবিবার আদালতের অভিযোগ গঠনের নির্ধারিত শুনানির দিন থাকায় কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই তিনজনকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। নিহত জোবায়েদ হোসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রায় এক মাসের দীর্ঘ পরিকল্পনা করে জোবায়েদকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছিল। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, পারস্পরিক প্রেমের সম্পর্কের নানা জটিলতা এবং অন্তরঙ্গ কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা ও ভীতিই ছিল এই হত্যাকাদ্মের নেপথ্যের আসল কারণ।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডে মাহির রহমান প্রধান হামলাকারী হিসেবে অংশ নেন, বার্জিস শাবনাম বর্ষা পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন এবং ফারদীন আহম্মেদ আয়লান তাঁদের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

নিহত জোবায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় টিউশনি করে নিজের খরচ চালাতেন। ঘটনার দিন গত বছর ১৯ অক্টোবর বিকেলে তিনি বরাবরের মতো পুরান ঢাকার বংশাল থানা এলাকার আরমানিটোলায় বর্ষার বাসায় তাঁকে পড়ানোর উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন।

বর্ষা সেদিন সন্ধ্যার কিছু সময় পর জোবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক জুনিয়র ছাত্রকে মোবাইল ফোনে জানান যে, তাঁদের গৃহশিক্ষক জোবায়েদ খুন হয়েছেন এবং কে বা কারা তাঁকে হত্যা করেছে। এমন সংবাদ পেয়ে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ভবনের সিঁড়ির ওপর উপুড় হয়ে থাকা জোবায়েদের রক্তে ভেজা মরদেহ দেখতে পান।

ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন বাদী হয়ে বংশাল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে গত ৩০ জুন এই তিনজন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভियोগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করেছিল।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
অজিদের হারিয়ে প্রথমবার হংকং সিক্সেসের শিরোপা জিতল আফগানরা

অজিদের হারিয়ে প্রথমবার হংকং সিক্সেসের শিরোপা জিতল আফগানরা