ঢাকা | বঙ্গাব্দ

অক্টোপাসের চলাচলের কৌশল দিয়ে তৈরি হবে উদ্ধার রোবট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 8, 2026 ইং
অক্টোপাসের চলাচলের কৌশল দিয়ে তৈরি হবে উদ্ধার রোবট ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

অত্যন্ত সরু ও সংকীর্ণ ফাঁকফোকরের ভেতর দিয়ে খুব সহজেই গলে যাওয়ার অনন্য এক প্রাকৃতিক ক্ষমতা রয়েছে অক্টোপাসের। এই সামুদ্রিক প্রাণীটি কীভাবে এত অসম্ভব কাজটি অবলীলায় সম্পন্ন করে, সেই রহস্যের বিস্তারিত প্রক্রিয়া অবশেষে উদ্‌ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছেন গবেষকেরা। বিজ্ঞানীদের এই দলের লক্ষ্য হলো প্রাণীটির চলাচলের এই বিশেষ কৌশলটিকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে উন্নত ধরনের রোবট নির্মাণ করা।

মানুষের মতো কোনো শক্ত ও অনমনীয় কঙ্কাল বা হাড় নেই অক্টোপাসের শরীরে। এদের সম্পূর্ণ দেহটি মূলত ‘পেশিবহুল হাইড্রোস্ট্যাট’ নামক এক বিশেষ উপাদান দিয়ে গঠিত হয়ে থাকে। এই কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই প্রাণীটি তাদের আটটি বাহুকে যেকোনো দিকে ইচ্ছেমতো বাঁকাতে পারে এবং তাদের শরীরের মধ্যভাগের আকৃতিও প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে ফেলতে পারে।

কোনো অতি সরু জায়গায় প্রবেশের সময় অক্টোপাসের শরীর যখন সংকুচিত হয়ে আসে, তখনো তাদের শরীরের প্রধান রক্তনালিগুলোর বিশেষ পেশিব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া সচল রাখতে সাহায্য করে। সাধারণত পাথুরে উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী এই প্রাণীগুলো মূলত বিভিন্ন শিকারি প্রাণীর হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে এবং দুর্গম কোণায় লুকিয়ে থাকা শিকার ধরতে এই সামর্থ্য কাজে লাগায়। এ ছাড়া বাহুর অত্যন্ত স্পর্শকাতর অনুভূতি ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন সরু পাথুরে ফাটল নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করে থাকে।

সিঙ্গাপুর এবং ইতালির যৌথ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন যে, ছোট গর্ত বা ফাটল দিয়ে ভেতরে ঢোকার সময় অক্টোপাস মূলত দুটি প্রধান কৌশল অবলম্বন করে থাকে। প্রবেশপথটি যদি অক্টোপাসের দুই চোখের দূরত্বের চেয়ে কিছুটা চওড়া হয়, তবে তারা সুনির্দিষ্ট তিন ধাপের একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভেতরে প্রবেশ করে।

এই তিন ধাপের প্রক্রিয়ার শুরুতে তারা একটি বাহু দিয়ে ভেতরের পরিবেশ পরখ করে এবং পরবর্তীতে কয়েকটি বাহু একে একে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়। সর্বশেষ ধাপটিতে সেই বাহুগুলোর ওপর ভর দিয়ে তারা তাদের পুরো শরীর ও মাথা টেনে ভেতরে নিয়ে আসে। তবে গর্ত বা ফাটলের মুখটি যদি প্রাণীটির চোখের দূরত্বের চেয়েও বেশি সরু হয়, তখন তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন চার ধাপের কৌশল ব্যবহার করে।

সে ক্ষেত্রে মাথার অংশ ও মেন্টল সুড়ঙ্গ দিয়ে গলানোর আগেই তারা বাকি বাহুগুলো সম্পূর্ণ আলাদাভাবে টেনে বের করে নিয়ে আসে। বিজ্ঞানীদের প্রবল প্রত্যাশা রয়েছে যে, অক্টোপাসের শরীর গলানোর এই অভিনব কৌশলকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির ধ্বংসস্তূপের নিচে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে ব্যবহারের উপযোগী উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক রোবট তৈরি করা পুরোপুরি সম্ভব হবে।

বর্তমান সময়ে উদ্ধারকাজে যে ধরনের রোবট ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সেগুলোর গড়ন সাধারণত বেশ লম্বা ও সরু প্রকৃতির হয়ে থাকে, যাতে এগুলো ছোট জায়গার ভেতর দিয়ে সহজেই যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু অক্টোপাসের শরীর থেকে সরাসরি অনুপ্রাণিত হয়ে ভবিষ্যতে যে রোবটগুলো তৈরি করা হবে, সেগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিংবা যোগাযোগের সরঞ্জাম যুক্ত করা যাবে।

এ ছাড়া এই রোবটগুলো নমনীয় বাহুর সাহায্যে আরও অধিক পরিমাণে প্রয়োজনীয় উপাদান বা সরঞ্জাম বহন করতে সক্ষম হবে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। তবে এ ধরনের নমনীয় রোবট বাস্তবে রূপ দেওয়া বা নির্মাণ করা প্রকৌশলীদের জন্য একটি বেশ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এর কারণ হলো, কোনো অতি সরু পথ বা সুড়ঙ্গ দিয়ে নির্বিঘ্নে যাওয়ার জন্য রোবটটির বাহুগুলোকে যেমন অত্যন্ত নরম হওয়া প্রয়োজন, ঠিক তেমনি পুরো শরীরকে টেনে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত শক্তিরও প্রয়োজন রয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
ইউপি ভোটার তালিকা থেকে ১.২৭ কোটি হিন্দু বাদ: যোগী

ইউপি ভোটার তালিকা থেকে ১.২৭ কোটি হিন্দু বাদ: যোগী