কালিহাতী উপজেলা প্রতিনিধি: শিবনাথ চন্দ্র ঘোষ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে জেলার ১ হাজার ৩৫৭টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেবী দূর্গার মহাসপ্তমী পূজা।
ভোর থেকেই সকল বয়সী ভক্তরা মণ্ডপগুলোতে আসতে থাকেন। রীতি অনুযায়ী চক্ষু দানের মাধ্যমে আবাহন করা হয়েছে দেবী দূর্গার। নব-পত্রিকা প্রবেশ, দেবী স্নান ও চন্ডীপাঠ করে সকালে মহা সপ্তমীবিহীত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পুরোহিতের মন্ত্র পাঠ, শঙ্খ, উলুধ্বনি, কাঁসর ঘণ্টা ও ঢাকের বাদ্যে মুখোরিত হয়ে ওঠে মণ্ডপগুলো।
ফল, মিস্টিসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে দেবীকে নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়। ভক্তরা বিশ্ব শান্তি কামনায় দেবীর চরনে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন। পূজা শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরন করা হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শারদীয় দুর্গোৎসবের এই তিথিতে দেবী দুর্গার শক্তি, কল্যাণ ও অশুভ শক্তির বিনাশের আরাধনার এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ভক্তরা দেবীর কাছে পরিবার, সমাজ ও দেশবাসীর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনা করবেন।
মহাসপ্তমীর প্রথম দিনের প্রভাতে শাস্ত্রীয় বিধি অনুসারে নবপত্রিকা স্নান ও পূজামণ্ডপে প্রবেশের মধ্য দিয়ে দিনের প্রধান আচার-অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রচলিত ভাষায় নবপত্রিকা ‘কলাবউ’ নামে পরিচিত।
কলাগাছ, কচুগাছ, হলুদগাছ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু ও ধানগাছ এই নয়টি উদ্ভিদ একত্র করে নবপত্রিকা প্রস্তুত করা হয়। শাস্ত্রীয় বিধি অনুসারে স্নান করিয়ে নবপত্রিকাকে পূজামণ্ডপে নির্দিষ্ট স্থানে আজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
নবপত্রিকা পূজার মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও উদ্ভিদজগতের সঙ্গে দেবী আরাধনার এক গভীর যোগসূত্র প্রতিফলিত হয়।
পূজাবিধি অনুসারে বিভিন্ন পবিত্র জল ও উপকরণ ব্যবহার করে দর্পণে প্রতিফলিত প্রতিমার উদ্দেশ্যে এই স্নান সম্পন্ন করা হয়। পরে নির্দিষ্ট মন্ত্র ও পূজাবিধির মাধ্যমে দেবীর ঐশ্বরিক উপস্থিতি আহ্বানের আচার পালিত হয়, যা প্রাণপ্রতিষ্ঠা নামে পরিচিত।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর