নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে প্রকাশ পেয়েছে যে, ইইউ বাজারে বাংলাদেশের সার্বিক রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি পোশাকের একক মূল্যও হ্রাস পেয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট সময়কালে প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য নেমে এসেছে ১৩ দশমিক ৭৬ ইউরোতে, অথচ বিগত বছরের একই সময়ে এই হার ছিল ১৪ দশমিক ৮৭ ইউরো। ফলস্বরূপ, প্রতি কেজির গড় মূল্য ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে গেছে এবং একইসঙ্গে রপ্তানির পরিমাণও ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল এই পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোকপাত করে জানান যে, কলকারখানার উৎপাদন খরচ লাগাতার বৃদ্ধি পেলেও ইউরোপীয় ক্রেতারা পোশাকের বর্ধিত মূল্য পরিশোধে পুরোপুরি অনীহা প্রকাশ করছেন। উল্টো তাঁরা আরও কম মূল্যে পোশাক সরবরাহের জন্য উৎপাদকদের ওপর ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করছেন, যার ফলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের ওপর বাণিজ্যিক সংকট ও চাপ আরও প্রকট আকার ধারণ করার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইউরোস্ট্যাটের বিশদ উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো সর্বমোট ৬ হাজার ২৯ কোটি ইউরোর পোশাক আমদানি সম্পন্ন করেছে। অথচ এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের একই সময়সীমায় এই আমদানির পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ২৬৯ কোটি ইউরো। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে হিসাব করলে স্পষ্ট হয় যে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে সামগ্রিক পোশাক আমদানি ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশের মতো কমে গেছে।
শুধু বাংলাদেশ নয়, সামগ্রিকভাবেই ইইউ বাজারে পোশাকের আমদানির সার্বিক মান ও মূল্য নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে। গত বছরের প্রথম আট মাসে প্রতি কেজি পোশাকের সামগ্রিক গড় আমদানি মূল্য ছিল ১৯ দশমিক ৯১ ইউরো, যা চলতি বছরের ঠিক একই সময়ে সামান্য কমে ১৯ দশমিক ৬৫ ইউরোতে এসে ঠেকেছে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে যে, একক বা সার্বিক উভয় ক্ষেত্রেই প্রতি কেজি পোশাকের গড় আমদানি মূল্য ১ দশমিক ২৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর