নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
শিশুদের সাইবার হয়রানির ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেবল ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা বা মুঠোফোন চেক করাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শিশু সুরক্ষায় কাজ করা সংগঠন ‘শিশুরাই সব’-এর আহ্বায়ক লায়লা খন্দকার এই মত প্রকাশ করে জানান, অভিভাবকদের নজরদারির পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের বিপদ এবং সাইবার বুলিংয়ের শিকার হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে ধারণা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
অনলাইনে কোনো ছবি কিংবা ডেটার অপব্যবহার ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে সবকিছু ডিলিট না করে সুনির্দিষ্ট কিছু আলামত সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন এই সংগঠক। তার ভাষ্যমতে, ঘটনার সময়, মূল ফাইল, স্ক্রিনশট, সংশ্লিষ্ট লিংক, প্রফাইলের নাম এবং বার্তাগুলো নিরাপদে সংরক্ষণ করার পর সামাজিক মাধ্যম কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা উচিত। শুধু অভিভাবকরাই নন, এ বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও সমানভাবে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডিজিটালি রাইট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী মনে করেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ইন্টারনেট সুরক্ষা দিতে কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রোফাইল তৈরির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি কোনো কার্যকর সমাধান বয়ে আনে না। এর জন্য সার্বিক নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি সমাজের সব স্তরে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা আবশ্যক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও যোগ করেন যে, পরিবারের তদারকি ও সচেতনতার পাশাপাশি অনলাইন মাধ্যমগুলোকে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং শিশু নির্যাতনমূলক অপরাধের তদন্তে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক শিক্ষা যুক্ত করার দাবি জানান তিনি। পরিশেষে, কমবয়সীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা দিতে পরিবার, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর