ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পম্পেইয়ে মিলল প্রাচীন কাঠের আলমারি ও সুগন্ধির শিশি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 1, 2026 ইং
পম্পেইয়ে মিলল প্রাচীন কাঠের আলমারি ও সুগন্ধির শিশি ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

প্রায় দুই সহস্রাব্দেরও বেশি সময় পূর্বে ৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মাউন্ট ভিসুভিয়াসের বিধ্বংসী অগ্ন্যুৎপাতের ফলে সম্পূর্ণ মাটির নিচে ঢাকা পড়েছিল প্রাচীন রোমান সভ্যতার শহর পম্পেই। সাম্প্রতিক সময়ে এই ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষের অভ্যন্তর থেকে সম্পূর্ণ সিল করা অবস্থায় একটি কাঠের আলমারি আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।

শহরটির জনবহুল ভিয়া ডেল’আবোন্দানজা সড়কের সংলগ্ন একটি আবাসিক ভবন থেকে এই প্রাচীন আলমারিটি উদ্ধার করা হয়েছে। ভবনটির গায়ে খোদাই করা শিলালিপি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, বাড়িটির মালিকানা ছিল কর্নেলিয়াস ম্যাক্সিমাস নামের এক ব্যক্তির হাতে।

উল্লেখ্য যে, ১৯১২ সালের দিকে ওই বাড়ির বহির্ভাগ বা সামনের অংশ খনন করা সম্ভব হলেও ভেতরের ঘরগুলো দীর্ঘকাল ধরে সবার দৃষ্টির আড়ালেই রয়ে গিয়েছিল।

উদ্ধারকৃত আলমারিটির ভেতর থেকে প্রাচীন রোমানদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য বিভিন্ন প্রসাধনসামগ্রী, কাচনির্মিত ক্ষুদ্রাকৃতির সুগন্ধির শিশি, চিমটা, ধূপদানি এবং ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি একটি লন্ঠন পাওয়া গেছে।

তবে এই সমস্ত উপকরণের মধ্যে প্রত্নতত্ত্ববিদদের সর্বাধিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে একটি শিশুর গলায় পরিধান করার বহুমূল্য হার।

প্রাচীন রোমান সমাজে শিশুদের এই বিশেষ ধরনের নেকলেসকে ‘ক্রেপুন্ডিয়া’ হিসেবে অভিহিত করা হতো, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি আবিষ্কার।

উদ্ধার হওয়া ওই হারটিতে প্রাচীন মিসরের দেবতা বেস এবং রোমান দেবতা মার্কারিসহ বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিকৃতিসংবলিত বিশটিরও অধিক ক্ষুদ্র লকেট ঝুলছিল।

ছোট শিশুরা যখন ঘরের এদিক-সেদিক চলাফেরা করত, তখন এই লকেটগুলোর পরস্পরের আঘাতে এক ধরনের ঝুনঝুন ধ্বনি সৃষ্টি হতো।

এই শব্দের মাধ্যমে অভিভাবকেরা সহজেই বুঝতে পারতেন তাদের সন্তান ঘরের ঠিক কোন নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করছে।

তদুপরি, সেই যুগে মানুষের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘনঘন ভ্রমণের যে প্রবণতা প্রচলিত ছিল, তাতে শিশুর সঠিক পারিবারিক পরিচয় নিশ্চিত করতেও এই হারটি সাহায্য করত।

আলমারিটির অন্দরে রান্নার কাজে ব্যবহৃত নানা পাত্র, ৩৮টি ব্রোঞ্জ মুদ্রা এবং সিসার বাটখারাযুক্ত একটি কাঠের বাক্সও সংরক্ষিত ছিল।

এই সমস্ত সামগ্রী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করে গবেষকদের ধারণা জন্মেছে যে, বাড়িটির সেই বাসিন্দা পেশাগতভাবে সম্ভবত একজন ব্যবসায়ী ছিলেন।

মূল্যবান অর্থকড়ি ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী এভাবে আকস্মিক ফেলে যাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুহূর্তে বাসিন্দারা কোনো প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি।

জীবন বাঁচাতে তাঁরা চরম আতঙ্কিত হয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিজেদের গৃহ ত্যাগ করে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।

এমনকি রান্নার সামগ্রী রাখার ঘরে অবস্থিত একটি মাটির পাত্রের ভেতর থেকে দুটি ইঁদুরের অবিকল কঙ্কালও উদ্ধার করা হয়েছে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
ইউরোপের ছয় দেশে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংকট ও রাজপথের আন

ইউরোপের ছয় দেশে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংকট ও রাজপথের আন