নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে। বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে আফ্রিকা, এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরে প্রতি সপ্তাহে বিপুল মাত্রায় ডিজিটাল আক্রমণ চালানো হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে যে, লাতিন আমেরিকার প্রতিটি বাণিজ্যিক বা প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্কে প্রতি সাত দিনে গড়ে প্রায় তিন হাজার আটশ তেরোটি অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো হয়।
আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলোতেও সাইবার অপরাধীদের তৎপরতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। এই ভূখণ্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক গড় হামলার সংখ্যা তিন হাজার সাতশ একটিতে পৌঁছেছে। বিশেষ করে অ্যাঙ্গোলা রাষ্ট্রে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ, যেখানে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে প্রতি সপ্তাহে গড়ে পাঁচ হাজার সাতশ চৌদ্দটি সাইবার হামলার মোকাবিলা করতে হয়।
অন্যদিকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। এই বিস্তীর্ণ এলাকায় অবস্থিত প্রতিটি প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্কে প্রতি সপ্তাহে গড়ে তিন হাজার পাঁচশ তিরানব্বইটি সাইবার আগ্রাসন রেকর্ড করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ্ব পরিসরে সবচেয়ে বেশি নাজুক অবস্থায় রয়েছে শিক্ষা ও গবেষণা খাত।
শিক্ষা খাতের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাইবার দুর্বৃত্তদের হানা দেওয়ার প্রবণতা সর্বাধিক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ডিজিটাল অবকাঠামোতে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ছয় হাজার ছয়শ ছাপ্পান্নটি সাইবার আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। এসব নিরাপত্তা লঙ্ঘন ও ডেটা চুরির ফলে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চড়া মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে তথ্য চুরির প্রতিটি বড় ঘটনায় প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতির পরিমাণ গড়ে দশ দশমিক বাইশ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এই গড় লোকসানের পরিমাণ সাত দশমিক ঊনত্রিশ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
গত দেড় দশক ধরে সাইবার আক্রমণের শিকার হয়ে সবচেয়ে বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসালয় খাত। চিকিৎসাসংক্রান্ত ডেটা বা তথ্য বেহাঁদ হওয়ার প্রতিটি ঘটনায় গড় ক্ষতির পরিমাণ সাত দশমিক বিচল্লিশ মিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সবমিলিয়ে বিশ দশমিক আট বিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে চালানো বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের সংখ্যা ছিল বাইশ হাজারের অধিক, যার আর্থিক মূল্যমান প্রায় নয়শ মিলিয়ন ডলার।
বর্তমান যুগের সাইবার নিরাপত্তা সংঘাত কেবল নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক সীমানার গণ্ডির মধ্যে আটকে নেই। অর্থ লেনদেন, ভূরাজনৈতিক ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং সার্বিক ইন্টারনেট সংযোগের ওপর ভিত্তি করে এই সাইবার যুদ্ধের পরিধি ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে নিজেদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড নিয়মিত পরিবর্তন করা এবং সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। এই সতর্কতাগুলোই যেকোনো সাইবার আক্রমণ থেকে বাঁচার প্রাথমিক পূর্বশর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর