নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গত বুধবার রাতের বেলা মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো ফোনে কথা হয়েছিল সেনাসদস্য তিতাসের। এই তথ্যটি জানিয়েছেন তাঁর মা রেখা বেগম।
ছেলের শেষ ফোনালাপের স্মৃতিচারণা করে রেখা বেগম জানান, তিতাস তাঁকে জানিয়েছিলেন যে পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁদের একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। অপরাধীদের দমনের ওই অভিযানে যাওয়ার প্রাক্কালে তিনি মায়ের কাছে বিশেষভাবে দোয়া প্রার্থনা করেছিলেন।
মায়ের স্মৃতির পাতায় এখন কেবলই সেই শেষ কথাগুলো ভেসে উঠছে। অথচ তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে মায়ের কাছে চাওয়া ওই দোয়াটিই ছিল সন্তানের সঙ্গে তাঁর জীবনের শেষ কথোপকথন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) প্রদত্ত বিবরণ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট দিনে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায় মানবপাচারকারী অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে যৌথবাহিনী।
অভিযান চলাকালে পাহাড়ি অঞ্চলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অতর্কিতে যৌথবাহিনীর ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। সন্ত্রাসীদের নিক্ষিপ্ত সেই বুলেটের আঘাতে গুরুতর আহত হন সেনাসদস্য তিতাস।
আইএসপিআর আরও জানায়, সংঘর্ষের ওই মুহূর্তে তিতাসের বুকের বামপাশে গুলি লাগে। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তাঁকে দ্রুত একটি বেসামরিক অ্যাম্বুলেন্সে তুলে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তরিত করা হয়।
রামু সিএমএইচের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় রাতেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর