ঢাকা | বঙ্গাব্দ

অনাবৃষ্টি ও খরায় নোয়াখালীতে আমন আবাদ নষ্টের শঙ্কা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 1, 2026 ইং
অনাবৃষ্টি ও খরায় নোয়াখালীতে আমন আবাদ নষ্টের শঙ্কা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

নোয়াখালী অঞ্চলে গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন খেত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তীব্র খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে জেলার কৃষকদের ক্ষেতের ফসল মাঠেই ঝলসে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলন বিপর্যয়ের মুখে পড়ে স্থানীয় কৃষকরা এখন চরম আর্থিক সংকটের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন এবং তাদের অনেকেরই পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

সদর উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের স্থানীয় কৃষক মো. মুরাদ উদ্দিন নিজের দুর্ভাবনার কথা জানিয়ে জানান যে, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় তার চাষ করা সাড়ে তিন একর জমির সম্পূর্ণ ফসলই পুড়ে গেছে। যতটুকু ফসল মাঠে টিকে রয়েছে, তাতেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বর্তমান এই সংকটের পরিস্থিতিতে তার সামনে পরিবার নিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।

একই উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মতিন জানান, খেতের বর্তমান বেহাল দশা দেখার পর তিনি এবার ঘরে ধান তুলতে পারার সমস্ত আশাই ত্যাগ করেছেন। চলতি বছরের জুলাই মাসে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কৃষকরা সময়মতো তাদের নির্ধারিত আবাদ শুরু করতে পারেননি। অথচ যখন ক্ষেতে পাকা ধান আসার সময় হয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বৃষ্টির অভাবে সমস্ত গাছপালা রোদে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের কৃষক রহিম উদ্দিন জানান, প্রতি বছরই তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে ধারদেনা করে এই ধান আবাদ করে থাকেন। এ বছর চাষাবাদের জন্য একেকজন শ্রমিককে প্রতিদিন এক হাজার থেকে বারো শ টাকা মজুরি দিতে হয়েছে। এর পাশাপাশি সার ও কীটনাশক কেনার বাড়তি খরচ তো রয়েছেই।

তিনি আরও যোগ করেন, এখন যদি অনেক দূর থেকে সেচের পানি টেনে আনতে হয়, তবে প্রতি একর জমিতে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা খরচ করতে হবে। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ নতুন করে বিনিয়োগ করার সামর্থ্য সাধারণ কৃষকদের আর নেই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে পুরো জেলায় মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৬২২ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। এই আবাদের বিপরীতে জেলা থেকে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫০ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

নোয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশীষ কুমার কর জানান, ভবিষ্যতে ফসলের সেচের জন্য পানির প্রাকৃতিক উৎস বৃদ্ধি করা এবং লবণসহিষ্ণু নতুন জাতের ধান আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করতে তারা বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া বর্তমান মৌসুমে আমন চাষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি তালিকা তৈরির কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই চূড়ান্ত তালিকা হাতে পেতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হবে। তালিকা প্রস্তুত হয়ে যাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের যথাযথ প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জীবনযুদ্ধের কোন স্তরে আছেন জানতে অংশ নিন এই মজার জরিপে

জীবনযুদ্ধের কোন স্তরে আছেন জানতে অংশ নিন এই মজার জরিপে