ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইরানে নতুন বিমান হামলা নিয়ে বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2026 ইং
ইরানে নতুন বিমান হামলা নিয়ে বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ইরানের ভূখণ্ডে পুনরায় বিমান হামলা পরিচালিত হলে সেটি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল থেকে বড় ধরনের ইউটার্ন হিসেবে বিবেচিত হবে। বিগত কয়েক মাস যাবৎ কঠোর সব নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর নৌ অবরোধের কারণে তেহরানের বৈদেশিক তেল রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ থমকে আছে। পাশাপাশি, দেশটির আকাশপথের যোগাযোগ নেটওয়ার্কের একটি বিশাল অংশ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং স্থলভাগের বাণিজ্যিক লেনদেনও ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে। এসব বহুমুখী নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে পড়ে ইতিমধ্যে তীব্র আর্থিক সংকটে জর্জরিত ইরানি অর্থনীতির ওপর নজিরবিহীন নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন থিংক ট্যাংক ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের ইরান বিষয়ক ইউনিটের সিনিয়র ডিরেক্টর বেহনাম বেন তালেবলু এই প্রসঙ্গে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প পুনরুদ্ধারের মতো কোনো ক্রমবর্ধমান বিপদের মোকাবিলায় যদি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক হয়েই পড়ে, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচিত পর্যাপ্ত ও বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে এনে এর যৌক্তিকতা প্রমাণ করা।

বিশ্লেষক তালেবলু আরও যোগ করেন যে, এই ধরনের প্রকাশ্য ও স্পষ্ট যুক্তি উপস্থাপন করা না গেলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ বলবৎ রেখেই ওয়াশিংটন শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তাঁর মতে, মার্কিন প্রশাসনের উচিত এই প্রমাণিত কৌশলটিই ধরে রাখা এবং বিনা কারণে নতুন সংঘাতে না জড়ানো।

অন্যদিকে, অনেক কৌশলগত বিশ্লেষকের জোরালো ধারণা রয়েছে যে, নতুন করে বিমান হামলা চালানো হলেও তেহরান সহসা পরাজয় স্বীকার করবে না। অতীতে সংঘাতের চরমতম পর্যায়েও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিলিতভাবে চালানো বিশ হাজারের অধিক বিমান হামলার অভিঘাত সফলভাবে মোকাবিলা করেছে ইরান।

এই বিশাল সামরিক আগ্রাসন সহ্য করার পরও পারস্য উপসাগরীয় জলসীমায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে তেহরানি বাহিনী। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, সেনা সদস্য ও যুদ্ধজাহাজগুলোকে নিয়মিত টার্গেট করা হচ্ছে এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার টেবিলে তেহরান তাদের নিজেদের অনমনীয় শর্তগুলো দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করে যাচ্ছে।

ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ড্যানি সিত্রিনোভিচ এই বিষয়ে নিজের সুচিন্তিত মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মারাত্মক একটি কৌশলগত ভুল হলো এই ধারণা পোষণ করা যে, ইরানের ওপর নতুন এক দফা হামলা চালালে দেশটির শাসনকাঠামোর পতন ঘটানো যাবে।

সিত্রিনোভিচ আরও বলেন যে, তেহরানের অতি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করে দেওয়া কিংবা শীর্ষস্থানীয় সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যা করা হলেও শাসনব্যবস্থার পতন নিশ্চিত নয়। উল্টো এসব বোমাবাজি অব্যাহত থাকলে ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানে আরও বেশি অনড় ও কঠোর হয়ে উঠতে পারে।

এই ধরনের সামরিক আগ্রাসন উল্টো তেহরানকে তাদের চলমান ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচিগুলোর প্রতি আগের চেয়ে বহুগুণ বেশি মাত্রায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করবে বলেই মনে করছেন এই সাবেক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শাহজাদপুরে দুর্গাপূজার বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করলেন পুলিশ স

শাহজাদপুরে দুর্গাপূজার বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করলেন পুলিশ স