ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলি সামরিক সহায়তা বন্ধে কংগ্রেসি জটিলতা ও আইনি বাধ্যবাধকতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 4, 2026 ইং
ইসরায়েলি সামরিক সহায়তা বন্ধে কংগ্রেসি জটিলতা ও আইনি বাধ্যবাধকতা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বিশ্লেষণে ফুটে উঠেছে যে, ২০১৬ সালে তৎকালীন ওবামা প্রশাসনের সময় সম্পাদিত দশ বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ-এর শর্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত নিয়মে প্রতি বছর তিন দশমিক আট বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা প্রদান করতেই হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য অনুযায়ী যদি ২০২৬ সালের সমাপনীর মধ্যে এই অর্থায়ন স্থগিত করতে হয়, তবে পূর্বের চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা আবশ্যক, যা মার্কিন কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া আইনগত দিক থেকে প্রায় অসম্ভব একটি ব্যাপার।

পাশাপাশি, এই সহায়তামূলক অর্থমূল্যের বড় একটা অংশ কার্যত একটি আমেরিকান ভর্তুকি হিসেবে ভূমিকা পালন করে থাকে। এর মূল কারণ হলো, ইসরায়েলের পেছনে ব্যয় করা এই অর্থ ঘুরেফিরে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিজেদের অস্ত্র উৎপাদনকারী কারখানাগুলোতে জমা হয়। ফলস্বরূপ, এই ধরনের সহায়তা হঠাৎ করে থামিয়ে দেওয়া হলে তা মার্কিন সামরিক শিল্পখাত এবং দেশের অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে বাধ্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জোরালোভাবে মনে করছেন যে, ট্রাম্পের এহেন ঘোষণা কেবল ইসরায়েল ও আমেরিকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরিধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির এক গভীর মেরুকরণেরই বাস্তব প্রতিফলন।

মিশিগানের সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সাইয়েদের মতো প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতারা দীর্ঘ সময় ধরে জোরালো যুক্তি প্রদর্শন করে আসছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের পেছনে সাধারণ মার্কিন জনগণের কষ্টার্জিত করের অর্থ অপচয় হওয়ার কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে খাদ্যপণ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও ট্রাম্প তাঁর সাক্ষাৎকারে এই সমস্ত প্রগতিশীল নেতাদের স্পষ্টভাবে কটাক্ষ করেছেন, তবুও তিনি পরোক্ষভাবে তাঁদের সেই উত্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলোকেই মেনে নিয়েছেন।

অন্যদিকে, গাজা সংকট ও ইরান যুদ্ধের বর্তমান পটভূমিতে ট্রাম্পের একান্ত নিজস্ব 'মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন' বা মাগা সমর্থক এবং ডানপন্থী পডকাস্টারদের ভেতরেও ইসরায়েলকে কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দিন দিন তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে যে, রেকর্ড সংখ্যক অর্থাৎ আটচল্লিশ শতাংশ আমেরিকান নাগরিক মনে করেন ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলকে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। মূলত এই কারণেই ট্রাম্পের বর্তমান পদক্ষেপটি তাঁর নিজস্ব বিচ্ছিন্নতাবাদী অথবা 'আমেরিকা ফার্স্ট' মতাদর্শের জনভিত্তিকে খুশি করার একটি সুপরিকল্পিত প্রয়াস।

এমন একটি সময়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণাটি এসে পৌঁছাল, যখন ইসরায়েল রাষ্ট্র নিজে একটি চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে সময় কাটাচ্ছে এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও বর্তমানে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।

যদিও ইতিপূর্বে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইসরায়েল আগামী এক দশকের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অনুদান বা সাহায্য থেকে নিজেদের সম্পূর্ণ স্বাধীন বা মুক্ত করতে ইচ্ছুক, তবুও ইরানের সঙ্গে চলমান বর্তমান সামরিক উত্তেজনার আবহে ওয়াশিংটনের এই অনিশ্চিত ও দ্ব্যর্থবোধক বার্তা তেল আবিব প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত অস্বস্তি তৈরি করেছে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
কুড়িগ্রামে দাদার বাড়িতে বেড়াতে এসে দাদা খুন, নাতি আটক

কুড়িগ্রামে দাদার বাড়িতে বেড়াতে এসে দাদা খুন, নাতি আটক