নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস এলাকায় সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি পাসপোর্ট প্রত্যাশী সাধারণ নাগরিকদের নানাভাবে জিম্মি করে হয়রানি করে আসছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযান চলাকালে অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় সাতজন দালালকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তদের অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে তাদের মধ্যে একজনকে দশ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য দুজনকে সাত দিন করে এবং বাকি চারজনকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এই যৌথ অভিযানে মোট বারোজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে আটকের পর নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও এই চক্রের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের প্রমাণ না মেলায় ওই পাঁচজনকে পরবর্তীতে কোনো শাস্তি ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়। এসআরবি-২-এর প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুরো ঘটনার এই বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, এই চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের আশেপাশের চত্বরে ও অলিগলিতে অবস্থান করত। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ দপ্তরে প্রবেশ করার আগেই তারা নানা কৌশলে তাদের ফাঁদে ফেলত।
পাসপোর্ট সেবা প্রার্থীদের ফরম সঠিকভাবে পূরণ করে দেওয়া, বিভিন্ন কাগজপত্রের সত্যায়ন করা এবং আবেদনের কোনো ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করার কথা বলে তারা টার্গেট ঠিক করত। অনেক সময় তারা গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য নানা ধরনের ভুল বা জাল কাগজপত্র পর্যন্ত তৈরি করত।
খুব অল্প সময়ের মধ্যে এবং কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই দ্রুত পাসপোর্ট পাইয়ে দেওয়ার লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিত এই প্রতারক চক্র। এই মিথ্যা আশ্বাসের মোহে ফেলে তারা সহজ-সরল গ্রাহকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ও কৌশলে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর