নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মা ইলিশ ধরার ওপর আরোপিত সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই চাঁদপুরের হরিণা মাছঘাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ প্রসবকালীন নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে জাল ফেলার পর পর্যাপ্ত পরিমাণ রূপালী ইলিশ মিলছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।
তবে এই সময়ে নদীর বুক জুড়ে ইলিশের পর্যাপ্ত প্রাচুর্য লক্ষ্য করা যায়নি বলে হতাশার কথা জানিয়েছেন হরিণা মাছঘাটের প্রবীণ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল। তাঁর ভাষ্যমতে, বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত নদ-নদীগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশে ভরপুর থাকার কথা থাকলেও এবারের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
অসন্তোষ প্রকাশ করে এই প্রবীণ ব্যবসায়ী আরও অভিযোগ করেন যে, কঠোর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদে একশ্রেণির অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করেছে। এর ফলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া নিয়ে একধরনের বড় শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, প্রশাসন ওই অসাধু জেলেদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্পূর্ণ সফল হয়নি।
অন্যদিকে, সম্পূর্ণ ভিন্ন আশাবাদী চিত্র তুলে ধরেছেন চাঁদপুর সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক। তাঁর মতে, জাটকা এবং প্রজননক্ষম মা ইলিশ সুরক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা দুটি প্রধান অভিযান কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যার সুফল এখন হাতেনাতে পাচ্ছেন জেলেরা।
বর্তমান মৎস্য পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে এই কর্মকর্তা জানান যে, শুধু ইলিশ নয়, এর পাশাপাশি জেলের জালে পর্যাপ্ত পাঙাশ মাছও ধরা পড়ছে। পাঙাশের প্রাকৃতিক উৎপাদন এবং এর বংশবিস্তার আরও বহুগুণ বাড়াতে যদি সরকারিভাবে বিশেষ ও কার্যকর কোনো প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়, তবে এই মাছও ভবিষ্যতে ইলিশের মতোই দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
সবশেষে নদীমাতৃক বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ চিরতরে রক্ষা করতে শুধু জেলেরা একা নন, বরং এর সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকল মহলে দায়িত্বশীল ও সচেতন ভূমিকা পালনের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন এই জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর