নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিশ্বজুড়ে ইনস্ট্যান্ট নুডলসের ব্যবহার ও জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে চীন ও হংকংয়ের সমকক্ষ অন্য কোনো রাষ্ট্র নেই বললেই চলে। ২০২০ সালের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কেবল চীন এবং হংকং মিলেই মোট ৪৬.৪ বিলিয়ন সার্ভিং নুডলস সেবন করেছে।
এই পরিমাণটি হলো সারা পৃথিবীর সর্বমোট চাহিদার প্রায় ৩৯.৮ শতাংশের সমান। সহজ কথায় বলতে গেলে, বিশ্বব্যাপী খাওয়া প্রতি পাঁচটি নুডলসের বাটির প্রায় দুটিই যায় এই দুটি অঞ্চলের মানুষের পেটে।
ব্যবহারের দিক থেকে এই তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, যেখানে মোট ১২.৬ বিলিয়ন সার্ভিং বা ১০.৮ শতাংশ নুডলস খাওয়া হয়। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই দেশটিই বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত খ্যাতি অর্জন করা ‘ইন্দোমি’ ব্র্যান্ডের জন্মভূমি।
ইন্দোনেশিয়ার ঠিক পরেই ক্রমান্বয়ে অবস্থান করছে ভিয়েতনাম এবং ভারত। ভিয়েতনামে যেখানে ৭.০ বিলিয়ন সার্ভিং নুডলস খাওয়া হয়, সেখানে ভারতের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি হলো ৬.৭ বিলিয়ন সার্ভিং।
তবে বর্তমান সময়ে ভারতের অবস্থান ক্রমান্বয়ে আরও ওপরে উঠে আসছে এবং তারা তৃতীয় স্থানটি দখল করার পথে রয়েছে। এছাড়া লক্ষণীয় বিষয় হলো, আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার মতো রাষ্ট্রও এই খাতের সেরা ১০ দেশের তালিকায় নিজেদের জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে।
মোট ব্যবহারের পরিমাণের দিক থেকে জনবহুল বড় দেশগুলো এগিয়ে থাকলেও, মাথাপিছু নুডলস খাওয়ার প্রতিযোগিতায় এককভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ভিয়েতনাম।
ভিয়েতনামের প্রতিটি নাগরিক বছরের ব্যবধানে গড়ে প্রায় ৮১ থেকে ৮৭ বাটি নুডলস অত্যন্ত তৃপ্তির সঙ্গে খেয়ে শেষ করেন। তাদের এই মাথাপিছু খাওয়ার হার বিশ্ব গড়ের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি।
অন্যদিকে, কোরিয়ান ড্রামা বা কে-ড্রামার ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরাও এই দিক থেকে পিছিয়ে নেই। তারা ঐতিহ্যবাহী সোনার রঙের টিনের পাত্রে রামেন বা নুডলস খেয়ে মাথাপিছু ৭৯ বাটি সেবনের রেকর্ড গড়েছেন।
পাশাপাশি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা আমেরিকা বর্তমানে এই বৈশ্বিক তালিকার ষষ্ঠ অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। এক সময়ে তারা সাধারণ চিকেন ব্রথ বা ঝোল পছন্দ করলেও, এখন সেখান থেকে সরে এসে একটু ঝাল বা স্পাইসি এশিয়ান ফ্লেভারের নুডলসের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর