নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক একটি মোটরসাইকেল জব্দের পর তা ছাড়াতে গিয়ে নিজেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জালে আটকা পড়েছেন রাসেল হোসাইন নামের এক ত্রিশ বছর বয়সী যুবক।
নিজেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের বা সিআইডির পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দাবি করে ওই দুই চাকার যানটি মুক্ত করার চেষ্টা চালান তিনি। কিন্তু তাঁর পরিচয়পত্র ও সামগ্রিক আচরণে সন্দেহ সৃষ্টি হলে পুলিশ তা খতিয়ে দেখতে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত রাসেল বেশ কিছুদিন ধরে সুকৌশলে সিআইডির কর্মকর্তা সেজে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন।
সিআইডির বিশেষ জ্যাকেট পরিহিত নিজস্ব ছবি তিনি মুঠোফোনে সংরক্ষণ করতেন এবং এই ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
গত সোমবার দুপুর তিনটার দিকে সংবাদমাধ্যমকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া উইংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ধৃত রাসেল হোসাইনের মূল বাড়ি জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার মরিচ্যা এলাকার ভূঁইয়া বাড়িতে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার, যখন শাসনগাছা এলাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক পুলিশের একটি দল সন্দেহজনক এক মোটরসাইকেল চালককে থামার নির্দেশ দেয়।
ওই সময় চালক নিজের নাম রাসেল বলে জানান এবং নিজেকে একজন সিআইডি কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ট্রাফিক পুলিশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালান।
তবে নির্ধারিত মোটরযানের বৈধ কাগজপত্র কিংবা নিজের পদের পক্ষে যথাযথ কোনো প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় কর্তব্যপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আইন অনুযায়ী যানটিকে ডাম্পিং স্টেশনে পাঠিয়ে দেন।
এর ঠিক পরের দিন অর্থাৎ রোববার জব্দকৃত মোটরসাইকেলটি যেকোনো মূল্যে ছাড়িয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয়ে হাজির হন রাসেল।
সেখানে উপস্থিত হয়েও তিনি নিজেকে সিআইডি অফিসার হিসেবে জাহির করতে থাকেন এবং তাঁর এই সন্দেহজনক কথাবার্তা ও পরিচয় নিয়ে ট্রাফিক পুলিশকর্মীদের মনে তীব্র সংশয় দেখা দেয়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে অবহিত করেন ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা।
খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ট্রাফিক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাঁর নাম, ধাম ও পরিচয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করে।
তদন্তে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, রাসেল আদতে সিআইডির কোনো সদস্য বা কর্মকর্তা নন এবং তিনি সম্পূর্ণ ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছিলেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করার কথা স্বীকার করেছেন।
তবে ঠিক কী ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড তিনি চালাতেন, কতজন সাধারণ মানুষ তাঁর প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং এই চক্রে অন্য কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য মেলেনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অবশেষে ভুয়া পরিচয় ধারণ করে প্রতারণার অপরাধে অভিযুক্ত রাসেল হোসাইনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর