নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে মোট ছয়টি বড় ধরনের হামলা চালানোর আনুষ্ঠানিক দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। গত বৃহস্পতিবার গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতির মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
এর মাত্র কিছুদিন আগেই তেহরানের মাটিতে সৌদি আরব এবং ইরানের উচ্চপর্যায়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সৌদির সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসন করার একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে একমত হয়েছিলেন।
ইরানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ওই কূটনৈতিক বৈঠকে সৌদি আরব ছাড়াও তুরস্ক এবং পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন। ওই বৈঠকের পর উভয় পক্ষের তরফ থেকে বেশ ইতিবাচক মনোভাব ও বক্তব্য প্রকাশ করা হলেও মাঠপর্যায়ে হুতি ও সৌদি আরব একে অপরের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে।
গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত নিজের ওই বিবৃতিতে হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বিস্তারিত জানিয়ে বলেন যে, সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বাণিজ্যিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে এই সফল হামলাগুলো চালানো হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন যে, দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে শুরু করে পশ্চিম উপকূল, রাজধানী রিয়াদ এবং একদম দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা এই হামলার আওতায় ছিল।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানায় যে, হুতিদের পক্ষ থেকে ছোড়া দুটি বিপজ্জনক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যখন সৌদির রাজধানী রিয়াদের দিকে এগিয়ে আসছিল, তখন তাদের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেগুলোকে সফলভাবে শনাক্ত করে মাঝপথেই ধ্বংস করে দেয়।
এই ক্ষেপণাস্ত্র দুটি আকাশে ধ্বংস করার খবর প্রকাশ্যে আসার ঠিক আগে রাজধানী রিয়াদ, আল-খারজ প্রদেশ এবং নাজরান শহরে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় পূর্বনির্ধারিত সতর্কবার্তা বা অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল।
সৌদি আরবের সরকারি বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস হওয়ার পর নিচে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন খণ্ডিত ধ্বংসাবশেষের আঘাতে রিয়াদ শহরে একজন সৌদি নাগরিক আহত হয়েছেন।
সংস্থাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান যে, ওই ধ্বংসাবশেষগুলোর সরাসরি আঘাতে একটি সাধারণ বসতবাড়ি এবং একটি ব্যক্তিগত গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, হুতি বিদ্রোহীরা অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাস তানুরা তেল শোধনাগার এবং আবকাইক এলাকায় অবস্থিত সৌদি আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
এ ছাড়াও তারা একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে রিয়াদের প্রধান কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ড্রোন ব্যবহার করে দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত হানে।
পাশাপাশি, রাবিগ তেল শোধনাগারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান অঞ্চলে সৌদি সামরিক বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সদর দপ্তরেও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হুতিরা।
তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের পক্ষ থেকে করা এই ধারাবাহিক হামলার দাবির সত্যতা সম্পর্কে অন্য কোনো স্বাধীন বা নিরপেক্ষ সূত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর