ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ফুলপুরে সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
ফুলপুরে সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় সারের নতুন ডিলার হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছেন মেসার্স সাদিকা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই ব্যবসায়ী বর্তমানে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের ডিলার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ধান ও চালের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তবে সার বিক্রির ক্ষেত্রে তাঁর পূর্বের কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা বা প্রাতিষ্ঠানিক পটভূমি নেই বলে জোরালো অভিযোগ উত্থাপন করেছেন এলাকার স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

গত ১৭ অক্টোবর ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড চত্বরে ‘ভাইটকান্দি ইউনিয়নের সর্বস্তরের কৃষক ও জনগণ’-এর ব্যানারে একটি প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হয়। উক্ত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা মো. সাখাওয়াত হোসেনকে বিগত দিনে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সমর্থক হিসেবে অভিহিত করেন এবং অবিলম্বে তাঁর এই ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানান।

ভাইটকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রহমান এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে জানান যে, একজন প্রকৃত সার ব্যবসায়ী না হওয়া সত্ত্বেও সাখাওয়াতকে ডিলার পদে বসানো হয়েছে। কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা আর্থিক সুবিধা প্রদান ছাড়া এমন বিতর্কিত নিয়োগ সম্পন্ন হওয়া অসম্ভব বলে তিনি দৃঢ় মত প্রকাশ করেন। অবিলম্বে এই নিয়োগ বাতিল করে দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করা প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ডিলার হিসেবে মনোনীত করার জোর দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত ডিলার সাখাওয়াত হোসেন তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন যে, তিনি জীবনের কোনো পর্যায়েই কোনো ধরনের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর ভুয়া ছবি তৈরি করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সম্পূর্ণ নিজস্ব যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই তিনি বৈধভাবে সারের ডিলারশিপ অর্জন করেছেন বলে সাফ জানিয়ে দেন।

এদিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায়ও সারের ডিলার নিয়োগ কার্যক্রমে বড় ধরনের অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মেসার্স মুন্সী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এবং পৌর কৃষক দলের সভাপতি মো. গোলাম কাজীয়েল হাজাত শাহী মুন্সী। গত ১২ অক্টোবর গৌরীপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে শাহী মুন্সী অভিযোগ করেন যে, উপজেলার প্রতিটি সারের ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অলিখিত বাণিজ্য বা লেনদেন সংঘটিত হয়েছে। এই গোটা অনিয়মের সাথে স্থানীয় উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় কতিপয় নেতা সরাসরি জড়িত রয়েছেন বলেও তিনি জোরালো দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে শাহী মুন্সী আরও অভিযোগ করেন যে, নিয়মানুযায়ী অনুষ্ঠিত লটারির ড্রতে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করা সত্ত্বেও তাঁকে চূড়ান্ত ডিলারশিপ প্রদান করা হয়নি। এমনকি সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে লটারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ব্যক্তিদের আসল নামগুলো পরবর্তীতে পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ উত্থাপন করেন। তবে এই সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর সত্যতাও স্বাধীনভাবে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় সারের ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত প্রকাশিত তালিকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের পরিবারের আপনজন ও ঘনিষ্ঠ স্বজনদের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকায় গোটা এলাকায় ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সদ্য প্রকাশিত সরকারি তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নে মেসার্স এসএম এন্টারপ্রাইজের নামে সারের ডিলারশিপ বরাদ্দ পেয়েছেন মো. মনিরুজ্জামান। তিনি সম্পর্কে উক্ত সংসদ সদস্যের আপন ছোট ভাই এবং একই সাথে তিনি দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন।

এছাড়াও উপজেলার উস্থি ইউনিয়নে ডিলারশিপ লাভ করেছেন সংসদ সদস্যের সম্মানিত মামা মো. মনিরুজ্জামান জসিম। তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি জাহিদুল স্যানিটারি অ্যান্ড হার্ডওয়্যার নামে তালিকাভুক্ত রয়েছে। অপরপক্ষে, যশরা ইউনিয়নে ডিলারশিপ বাগিয়ে নিয়েছে সেলিম ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল রানা গফরগাঁও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়ভাবে তিনি নিজেকে সংসদ সদস্যের চাচাতো শ্যালক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অবৈধ ও তদ্বিরের কাজ হাসিল করেন বলেও জনশ্রুতি ও অভিযোগ রয়েছে।

নিজের ভাই এবং নিকটাত্মীয়দের ডিলারশিপ লাভ করার বিষয়ে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হলে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু এর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি জানান যে, রাজনৈতিক ত্যাগ, ব্যবসায়িক যোগ্যতা, সরকারের নির্ধারিত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ডিলারদের নিজস্ব গুদাম নির্মাণের পর্যাপ্ত সক্ষমতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করার পরেই এই ডিলারদের চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্পষ্ট ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর কোনো চাচাতো শ্যালক নেই এবং তাঁর ভাই ও মামা সম্পূর্ণ নিজেদের যোগ্যতা ও মেধার বলেই এই ডিলারশিপ লাভ করেছেন।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
যুবা নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ, ২১ জানুয়ারি উদ

যুবা নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ, ২১ জানুয়ারি উদ