ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ব্যক্তিগত মোহ ত্যাগ করে সতীর্থকে গোল উপহার দিলেন রাফায়েল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 25, 2026 ইং
ব্যক্তিগত মোহ ত্যাগ করে সতীর্থকে গোল উপহার দিলেন রাফায়েল ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

শুকি ইতোফুসার শটটি যখন গোললাইনের দিকে এগোচ্ছিল, তখন রাফায়েল টুডুর সামনে সুযোগ ছিল নিজের নামের পাশে জোড়া গোল লেখার। তবে সাইডলাইন থেকে সতীর্থদের নিষেধের পাশাপাশি রাফায়েল নিজেও বলটি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকেন। ব্যক্তিগত কৃতিত্বের মোহ ত্যাগ করে সতীর্থকে গোল উপহার দেওয়ার এমন মহৎ মানসিকতা গভীরভাবে আনন্দিত করেছে ফর্টিস দলের কোচকেও।

ম্যাচ শেষে নিজের এই নিঃস্বার্থ পদক্ষেপের বিষয়ে রাফায়েল জানান যে তার নিজের গোল তো আগেই অর্জিত হয়েছিল। তিনি মূলত চেয়েছিলেন যেন তার ওই সতীর্থের নামের পাশেও একটি আন্তর্জাতিক গোলের কৃতিত্ব যোগ হয়। এছাড়া খেলা শেষে ড্রেসিংরুমে ফিরে যাওয়ার পর কোচও তাদের মধ্যকার এই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের দারুণ প্রশংসা করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অথচ বর্তমান এই টুর্নামেন্টের প্লে-অফ পর্বে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত মুরাস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামার কোনো সুযোগই পাননি রাফায়েল। মূলত সেই আক্ষেপ থেকেই তার মনের ভেতর দারুণ একটি জেদ চেপে বসেছিল। যার ফলে তার প্রাথমিক লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় নিজেকে পুরোপুরি ফিট রেখে মূল ২৩ জনের স্কোয়াডে জায়গা নিশ্চিত করা, যাতে অন্তত দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।

টানা দুটি ম্যাচে দুটি গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করলেও ঠিক আগের ম্যাচে ভারতের এফসি গোয়ার বিপক্ষে দলটির কাছে পরাজয়ের ক্ষত এখনো ২৫ বছর বয়সী রাফায়েলের মনে বেদনা জাগায়। ওই প্রতিযোগিতায় তিনি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে দলের হয়ে সমতা ফিরিয়েছিলেন বটে, কিন্তু ঠিক শেষ দশ মিনিটের মাথায় গোল হজম করে শেষ পর্যন্ত ফর্টিস দলকে দুই-এক ব্যবধানে পরাজয় বরণ করতে হয়।

ওই ম্যাচটি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে রাফায়েল জানান যে নিজের ব্যক্তিগত গোল পাওয়ার চেয়েও ম্যাচটি যদি ড্র হতো তবে তিনি অনেক বেশি আনন্দ পেতেন। তার মতে, ওই ম্যাচটিতে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারলে হয়তো চার পয়েন্ট সংগ্রহ করে পরবর্তী রাউন্ডের প্রতিযোগিতায় তারা টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যেতে পারতেন।

ঘরোয়া ফুটবল থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মঞ্চ; সর্বত্রই বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে গোল করার ফলে তার নামের সঙ্গে এখন ‘সুপার সাব’ তকমাটি যুক্ত হয়ে গেছে। ঘরোয়া লিগের এবারের আসরে মাত্র একুশ মিনিট খেলেই দুটি গোল আদায় করে নিয়েছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

তবে এই বিশেষ তকমায় নিজের ক্যারিয়ার সীমিত রাখতে রাজি নন রাফায়েল। আগামী দিনে শুরুর একাদশে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পাওয়া এবং ঘরোয়া লিগে নিজের গোলের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটাই এখন তার জীবনের প্রধান লক্ষ্য।

নিজের পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই দীর্ঘদিন ধরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করা জাতীয় দলের দরজা নিজের জন্য খুলতে চান এই ফুটবলার। জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার বিষয়টি পরের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান যে সবার আগে প্রাথমিক স্কোয়াডে ডাক পাওয়াটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হবে এবং তিনি সেই সুদিনের অপেক্ষায় আছেন।

সামনে ঘরোয়া লিগের আরও অনেকগুলো ম্যাচ বাকি রয়েছে এবং সেই ম্যাচগুলোতে নিজের পারফরম্যান্স ও গোলের মাধ্যমে নির্বাচকদের নজর কাড়তে চান তিনি, যাতে একসময় জাতীয় দলের দরজা তার জন্য উন্মুক্ত হয়।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বসতিপূর্ণ আমতলীপাড়া গ্রাম থেকে রাফায়েলের আজকের এই অবস্থানে উঠে আসার পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ সংগ্রামমুখর ইতিহাস। বর্গাচাষির পরিবারে জন্মগ্রহণ করায় যেখানে ফুটবল খেলাটাই ছিল একপ্রকার বিলাসিতার মতো, সেখান থেকে মাত্র সাতশ টাকা পকেটে নিয়ে জীবিকার সন্ধানে ও স্বপ্নের টানে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন।

ফুটবল জীবনের শুরুতে তিনি একজন গোলকিপার হিসেবে খেলা শুরু করলেও সময়ের পরিক্রমায় আজ তিনি একজন সফল স্ট্রাইকারে রূপান্তরিত হয়েছেন। আর সেই ফুটবলার আজ মহাদেশীয় বা এশিয়ার মঞ্চে গিয়েও গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করা স্ট্রাইকার হিসেবে নিজের নাম লিখিয়েছেন।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার সাহিত্য আড্ডা ও আবৃত্তি অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার সাহিত্য আড্ডা ও আবৃত্তি অনুষ্ঠিত