ঢাকা | বঙ্গাব্দ

৪৩০ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 22, 2026 ইং
৪৩০ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয় ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে গতকাল অনুষ্ঠিত এক রোমাঞ্চকর ওয়ানডে ম্যাচে রেকর্ড আর মাইলফলকের ছড়াছড়ি দেখা গেছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় নেমে অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দুই দলের ব্যাটারদের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের সুবাদে এই ম্যাচে রান উঠেছে মোট ৮৫৯টি, যা ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড পাহাড়সম দলীয় সংগ্রহ দাঁড় করায়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নির্ধারিত ওভারগুলোতে ব্রিটিশরা সংগ্রহ করে ৪৩০ রান। পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডে ফরম্যাটে এটিই প্রথম কোনো দলের চার শ রান পেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা। এর আগে পাকিস্তানি মাটিতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ছিল ৩৭৫ রানের, যা ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন উইকেটে করেছিল পাকিস্তান দল।

এই রানপাহাড়ে ওঠার মূল কারিগর ছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে তিনি মাত্র ১১৪ বলে ব্যক্তিগত ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে কম বল খেলে দ্বিশতক হাঁকানোর বিশ্ব রেকর্ড। গত মাসেই ভারতের শুভমান গিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১১৭ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করে এই কীর্তি গড়েছিলেন, যা পেছনে ফেললেন ব্রুক।

ব্রুকের এই অতিপ্রাকৃতিক ইনিংসটি ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসেও প্রথম। এর আগে ওয়ানডেতে ইংলিশদের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংসটি ছিল বেন স্টোকসের দখলে, যিনি ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮২ রান করেছিলেন। পাশাপাশি ওয়ানডে ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ব্যাটার পরাজিত দলের হয়ে ডাবল সেঞ্চুরির আভিজাত্য অর্জন করলেন। হারতে থাকা দলের হয়ে এর আগে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডটি ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০০৯ সালে করা চার্লস কভেন্ট্রির অপরাজিত ১৯৪ রান।

ওপেনিংয়ে না নেমে নিচের পজিশনে ব্যাট করে ওয়ানডেতে এটিই এখন সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড। এর আগে ছয় নম্বরে নেমে ২০২৩ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল অপরাজিত ২০১ রান করেছিলেন। আর চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে আগের সর্বোচ্চ ইনিংসটি ছিল ১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভিভ রিচার্ডসের অপরাজিত ১৮৯ রান।

অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করার ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন ব্রুক। এর আগে এই অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন কেবল ভারতের বীরেন্দর শেবাগ, রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল। এছাড়া ইংল্যান্ডের কোনো অধিনায়কের আগের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল অ্যান্ড্রু স্ট্রসের ১৫৮ রান, যা তিনি ২০১১ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে করেছিলেন।

গতিদানব পেসারদের বিপক্ষেও ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। পেসারদের মোকাবেলা করে মাত্র ৯০ বলেই নিজের রানের ঝুলি পূর্ণ করেছেন ব্রুক। বল বাই বল হিসাব সংরক্ষণের প্রচলন হওয়ার পর থেকে ওয়ানডে ম্যাচে কোনো ব্যাটারের পেসারদের বিপক্ষে এটিই সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ড। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৬৪ রানের ঐতিহাসিক ইনিংসে পেসারদের বিপক্ষে রোহিত শর্মার করা ১৬৬ রান ছিল আগের সর্বোচ্চ।

বিশাল লক্ষ্য তাড়ার পথে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের যখন ২৫ ওভার শেষ হয়, তখন দলটির সংগ্রহ ছিল দুই উইকেটে ১৬৯ রান। অর্থাৎ জয়ের জন্য শেষ ২৫ ওভারে লঙ্কানদের প্রয়োজন ছিল আরও ২৬১ রান। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে শেষ ২৫ ওভারে এত বিশাল রান তাড়া করে জয়ের আর কোনো পূর্বদৃষ্টান্ত নেই। এর আগে ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের শেষ ২৫ ওভারে ২১৫ রান দরকার ছিল, যা ছিল আগের রেকর্ড।

অন্যদিকে বল হাতে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েন ইংলিশ পেসার স্যাম কারেন। তিনি তার কোটার ওভারে খরচ করেন রেকর্ড রান। পুরুষদের ওয়ানডে ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের কোনো বোলারের সবচেয়ে বেশি রান দেওয়ার বিব্রতকর রেকর্ড এখন তার। এর আগে ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯৮ রান দিয়ে আগের এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটিও নিজের করে রেখেছিলেন কারেন।

ম্যাচটিতে ব্যাট হাতে দুই দলের অন্তত আটজন খেলোয়াড় ব্যক্তিগত ফিফটি বা তার বেশি রান করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ওয়ানডের এক ম্যাচে আটটি বা তার বেশি ফিফটি ইনিংসের ঘটনা এটি যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এর আগে এমন নজির দেখা গেছে মোটে তিনবার, যার প্রতিটিই ঘটেছিল উপমহাদেশের উইকেটে।

চার-ছক্কার জোয়ারে ভাসতে থাকা এই ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে মোট ৯৩টি চার হাঁকিয়েছেন ব্যাটাররা, যা ওয়ানডে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ সীমানায় বল পাঠানোর রেকর্ড। এর আগে ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে যৌথভাবে ৮৭টি চার দেখা গিয়েছিল। বর্তমান এই লড়াইয়ে একাই ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা ৪৮টি এবং শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা ৪৫টি চার মেরেছেন।

ম্যাচের শেষভাগে লঙ্কানরা ৪৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য সফলভাবে টপকে ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার অবিস্মরণীয় রেকর্ড গড়েছে। এর চেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের একমাত্র নজিরটি দক্ষিণ আফ্রিকার দখলে। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৩৫ রানের পাহাড় টপকে জিতেছিল প্রোটিয়ারা। এমনকি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের সামগ্রিক ইতিহাসে সফল রান তাড়ার তালিকায় শ্রীলঙ্কার এই জয়টি রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। এছাড়া চার শ বা তার বেশি রান তাড়া করে জয়ের সাম্প্রতিক প্রবণতা দেখা গেছে, যার শেষ পাঁচটি ঘটনার চারটিই ঘটেছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মাদুরোকে আটক: মার্কিন ‘আগ্রাসন’ নিয়ে ইরানের অবস্থান কী?

মাদুরোকে আটক: মার্কিন ‘আগ্রাসন’ নিয়ে ইরানের অবস্থান কী?