নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী রাষ্ট্র সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পরিবারের সদস্য কিংবা কূটনৈতিক মিশনকে কোনো ধরনের তথ্য না দিয়েই রায় কার্যকর করায় ভিয়েনা কনভেনশন ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। কূটনৈতিক এই সনদে স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে সৌদি আরবের স্পষ্ট দায়িত্ব ছিল বন্দী করার পর অবিলম্বে নিজ দেশের দূতাবাসকে জানানো।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদের কাছাকাছি স্থানে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো এক যুগল একে অপরকে চুম্বন করার অপরাধে অভিযুক্ত হন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরপরই দেশের বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের বিদেশি আইন মেনে চলার নানা রকম উপদেশ দেওয়া হচ্ছে। এমন কি শাসক দলের এক আইনপ্রণেতাসহ নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি নিহত ওই দুই নাগরিকের মরদেহ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতেও পিছপা হননি।
নাগরিকদের যেকোনো রাষ্ট্রে গমন করলে সেখানকার স্থানীয় বিধিবিধান কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত, বিষয়টি অনস্বীকার্য। বেআইনি উপায়ে অন্য রাষ্ট্রে প্রবেশ করার প্রচেষ্টা চালানো থেকেও বিরত থাকা আবশ্যক। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আইন কানুন মেনে চলার এ ধরনের জোরালো পরামর্শ সবসময় বা সব বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রচার করা হয় না।
যেসব ব্যক্তি সৌদি ভূমিতে প্রাণদণ্ডের শিকার দুই প্রবাসীর অপরাধ নিয়ে অত্যন্ত সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন, তাদেরই আবার দেশটির মাটিতে কর্মরত নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ আসলে সম্পূর্ণ নীরব থাকতে দেখা যায়। রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় এক লাখ কুড়ি হাজার নারী কর্মী কাজের উদ্দেশ্যে রিয়াদ গেছেন।
অন্যদিকে অভিবাসী তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসেছেন এক হাজার ছয় শ সাতাশি জন নারী কর্মী। এর মধ্যে কেবল সৌদি আরব থেকেই শূন্য হাতে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন নয় শ উনআশি জন নারী। এই খাত নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের দাবি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, নিয়মিত বেতন না পাওয়া কিংবা যৌন হয়রানির শিকার হওয়াই তাদের দেশে ফিরে আসার নেপথ্যের প্রধান কারণ।
দেশের সাধারণ নাগরিকদের বড় অংশকেই নারী শ্রমিকদের ওপর চলা এমন নির্মম নিপীড়নের বিরুদ্ধে কখনো উচ্চকণ্ঠ হতে দেখা যায় না। বিশ্ববাসী অবগত আছে যে মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশটিতে বিচার ও শাসনপদ্ধতি অত্যন্ত কঠোর। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, নারী নির্যাতন কিংবা যৌন হয়রানির মতো বিষয়গুলোও সেখানের আইনে কঠোরভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। তবে এহেন অপরাধের দায়ে ঠিক কতজন অপরাধীর বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত হয়েছে, সেই তথ্য কি এ দেশের কেউ কখনো দিতে পারবেন?
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর