ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে হেমিংওয়ের ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ নিয়ে পাঠচক্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2026 ইং
ময়মনসিংহে হেমিংওয়ের ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ নিয়ে পাঠচক্র ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মার্কিন কথাসাহিত্যিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের অমর সৃষ্টি ‘দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ নিয়ে একটি সাহিত্য আলোচনার আসর বসেছে। গত ২৪ অক্টোবর প্রথম আলোর ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ে এই বিশেষ পাঠচক্রের আয়োজন করে ময়মনসিংহ বন্ধুসভা।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল এই বিশ্বখ্যাত নভেলা নিয়ে আলোচনা। সাহিত্য অনেক সময় জীবনের এমন গভীর সত্য উন্মোচন করে, যা বিশাল উপন্যাসের চেয়ে ছোট পরিসরে আরও জোরালোভাবে ফুটে ওঠে। হেমিংওয়ের এই বিখ্যাত কাজটি ঠিক তেমনই একটি অসাধারণ সাহিত্যিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশাল জলরাশির বুকে এক প্রবীণ জেলের মৎস্য শিকারের অদম্য লড়াই এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য। মানুষের ভেতরে থাকা সাহস, ধৈর্য, আত্মসম্মান এবং যেকোনো বিপদের মুখে অবিচল থাকার মানসিকতার এক রূপক হলো এই রচনা।

১৯৫২ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর এটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। অসাধারণ এই সৃষ্টির স্বীকৃতিস্বরূপ কথাসাহিত্যিক ১৯৫৩ সালে মর্যাদাপূর্ণ পুলিৎজার পুরস্কার অর্জন করেন। পরবর্তীতে তাঁর নোবেল প্রাইজ প্রাপ্তির নেপথ্যেও এই বইটির বিশেষ ভূমিকা ছিল।

কাহিনীতে সান্তিয়াগো নামের কিউবার এক বয়স্ক জেলের দীর্ঘ ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে। লাগাতার चौराশি দিন সমুদ্রে গিয়েও তিনি একটিও মাছ ধরতে পারেননি। এই টানা ব্যর্থতার দরুন আশেপাশের মানুষ তাঁকে অপয়া বা দুর্ভাগা বলে উপহাস করত।

তা সত্ত্বেও তিনি নিজের পারদর্শিতা ও অভিজ্ঞতার ওপর পূর্ণ আস্থা বজায় রেখেছিলেন। একদিন একা একা জলরাশিতে পাড়ি জমান তিনি এবং তাঁর বড়শিতে ধরা দেয় এক প্রকাণ্ড মার্লিন মাছ।

এরপর শুরু হয় ওই বয়স্ক মৎস্যজীবী ও শক্তিশালী জলজ প্রাণীর মধ্যে এক মরণপণ দ্বৈরথ। শারীরিক অক্ষমতা, হাতের ক্ষত এবং চরম ক্লান্তি তাঁকে দমাতে পারেনি এবং তিনি হাল ছাড়েননি।

শেষ পর্যন্ত নিজের প্রচেষ্টায় ওই মাছটিকে কাবু করতে সমর্থ হন তিনি। তবে তীরে ফেরার পথে ঘটে বিপত্তি, যখন ক্ষুধার্ত হাঙ্গরগুলো শিকারের সব মাংস খেয়ে ফেলে।

অবশেষে দীর্ঘ সংগ্রামের পর তীরে কেবল একটি বিশাল কঙ্কাল নিয়ে পৌঁছান সান্তিয়াগো। বাহ্যিক বিচারে প্রাপ্তি শূন্য হলেও তাঁর অদম্য জেদ তাঁকে করে তোলে সত্যিকারের বিজয়ী।

সভা শেষে একটি সাংগঠনিক বৈঠকেও যোগ দেন উপস্থিত বন্ধুরা। পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক আল ইমরান তাঁর বক্তব্যে জীবনের গভীর উপলব্ধির কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, কাঙ্ক্ষিত সাফল্য থেকেও বঞ্চিত হওয়ার বেদনা কতটা তীব্র হতে পারে, তা আজ উপলব্ধি করা গেল। কিন্তু লড়াই সেখানে থেমে থাকে না, অদম্য মনোভাবই আসল অর্জন।

উক্ত আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মেহেদি হাসান। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দরভাবে সঞ্চালনা করেন তিনি নিজে।

এছাড়া এই সাহিত্য আসরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক মুস্তাফিজুর রহমান।

অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন কার্যনির্বাহী সদস্য খালিদ হাসান সম্রাট ও অর্থ সম্পাদক অনিক চন্দ্র দাস।

পাশাপাশি দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ফারদিন হাসান এবং অন্য বন্ধু সোজন চন্দ্র দাস উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও জুনায়েদ সালমান ও রুপা চন্দ্রের মতো নিবেদিতপ্রাণ বন্ধুরা এই সাহিত্য সভায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
যেসব পরিস্থিতিতে ইসলামে উপহার নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

যেসব পরিস্থিতিতে ইসলামে উপহার নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ