নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের প্রশাসনের তথ্য অনুসারে, ইরিও কোম্পানির পরিচালিত রেলগাড়িটিতে এক শিশুসহ মোট ১৪৬ জন যাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে, রেনফে পরিচালিত অপর রেলগাড়িটির ভেতর অবস্থান করছিলেন ৩৯৭ জন যাত্রী। সর্বসাকুল্যে এই দুটি দুর্ঘটনাগ্রস্ত যানে পাঁচ শতাধিক যাত্রী ও একটি শিশু সওয়ার ছিল।
স্প্যানিশ জরুরি পরিষেবা বিভাগের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশাল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত স্থানে বেশ কয়েকটি অগ্নিনির্বাপক বাহিনী, তিনটি চপার এবং আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন দুটি বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স বা ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাকেন্দ্র মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন স্থিরচিত্রে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের তৎপরতার পাশাপাশি রেললাইনের পাশে ট্র্যাকচ্যুত হয়ে পড়ে থাকা কামরাও দেখা গেছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গভীর মর্মাহত হয়ে শোকবার্তা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে, ভুক্তভোগী মানুষেরা যেন পর্যাপ্ত সহায়তা ও সুরক্ষা পান, তার জন্য জরুরি সেবাদানকারী কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। এই আকস্মিক ট্র্যাজেডির কারণে দেশটির বেশ কজন রাজনীতিবিদ তাঁদের পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিও বাতিল করেছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দক্ষিণ স্পেনের আদামুজ অঞ্চলে সংঘটিত অপর এক দ্রুতগতির ট্রেন দুর্ঘটনায় মোট ৪৬ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনাটি স্পেনের হাই-স্পিড রেলওয়ে খাতের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তবে প্রারম্ভিক তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, আদামুজ ও উর্দার সংঘটিত এই দুর্ঘটনা দুটির পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট পরস্পরের থেকে ভিন্ন ছিল।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর