ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে ট্রলার নামানোর অভিযোগ, ফোনালাপ ফাঁস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2026 ইং
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে ট্রলার নামানোর অভিযোগ, ফোনালাপ ফাঁস ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

মা ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা অবস্থায় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে দুই শতাধিক মাছ ধরার জলযান বঙ্গোপসাগরের জলসীমায় অবরোহণের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, এই বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন জেলে ও ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সংগঠনের কতিপয় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

গভীর সাগরে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে বিগত কয়েক দিন ধরে বরফ বোঝাই করা এসব জলযান রাতের বেলা গোপনীয়তা রক্ষা করে উপকূলীয় ঘাটগুলো ছেড়ে গেছে। নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনই ইলিশ বোঝাই করে এই জলযানগুলোর ঘাটে ফেরার কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এহেন গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে কাজল রেখা শুরুতে এই তথ্যগুলোকে সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি জানান যে পরিস্থিতির নেপথ্যে জটিল নানা বিষয় জড়িয়ে রয়েছে এবং তিনি একটি রাজনৈতিক দল ও দপ্তরের দুর্নীতিবাজ চক্রের গভীর চক্রান্তের শিকার হয়েছেন।

আলোচিত এই কথোপকথনটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় বরং অনেক আগের পুরনো ঘটনা বলে দাবি করেন কাজল রেখা। তিনি জানান, ঠিক আগের দিন তারা একটি বিশাল ফিশিং জলযান আটক করেছিলেন এবং এলাকার একজন গণমাধ্যমকর্মীও সেই সময় জলযানটিতে উপস্থিত ছিলেন।

গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাল পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়ে ওই সাংবাদিক দাবি করেছিলেন যে অন্যথায় মাছ তোলা সম্ভব হবে না। সংবাদকর্মীর সঙ্গে কথাকাটাকাটির পর ওই ব্যক্তি পুরোনো রেকর্ডিং ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করেছিলেন বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।

ওই গণমাধ্যমকর্মীই ফোনালাপটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন বলে তার তীব্র সন্দেহ রয়েছে। দপ্তরের ভেতর থেকে দালাল চক্রের লোকজনকে বহিষ্কার করার ক্ষোভ থেকেই একটি চক্র তার বিরুদ্ধে এই গভীর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করেছে বলে তিনি দৃঢ় মত প্রকাশ করেন।

নির্দিষ্ট সময়ে রহিম হাফেজের ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে আরিফ নামের এক ব্যক্তি কল রিসিভ করে জানান যে তিনি একজন দোকানদার এবং ফোনের মালিক সেটটি দোকানে চার্জে রেখে অন্যত্র গিয়েছেন।

বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে যোগাযোগ করা হলে রহিম হাফেজ সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করে জানান যে তিনি এই ধরনের কোনো বক্তব্য কখনো প্রদান করেননি এবং এমন কোনো আলোচনাও তার সঙ্গে হয়নি।

আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে অনেক কিছু জালিয়াতি করা সম্ভব। সাম্প্রতিক এই অডিও রেকর্ডটিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপপ্রয়োগ ঘটিয়ে সাজানো হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি জোরালো ধারণা প্রকাশ করেন।

মনপুরা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সামছুদ্দিন মোল্লা এই প্রসঙ্গে জানান যে তিনি ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই কথোপকথনের রেকর্ডটি শ্রবণ করেছেন। ঘটনাটি তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে দেখছেন এবং পরবর্তীতে যথাযথ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

ভোলা জেলার মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান যে ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডটি তাদের কর্ণে পৌঁছেছে এবং তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে দেখছেন। এরপর এই ঘটনায় একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং নিয়মতান্ত্রিক দাপ্তরিক কার্যক্রমের দিকে অগ্রসর হওয়া হবে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সফল ব্যক্তিদের শৈশবের দশটি অভ্যাস ও সাফল্যের রহস্য

সফল ব্যক্তিদের শৈশবের দশটি অভ্যাস ও সাফল্যের রহস্য