নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
গত মধ্যরাতে বরিশালের বিএম কলেজের একটি ছাত্রাবাসে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহফুজ রাত বারোটার দিকে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
মাহফুজ জানান, ছাত্রাবাসের অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণের মান নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে এই অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। মূলত সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদল নেতাদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক কাজী জাবের আহমেদ পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের মধ্যে গোলযোগ দেখা দেওয়ার পর তিনি সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছিলেন বলে জানান।
অধ্যক্ষ উল্লেখ করেন, ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহকারী সুপারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব হয়।
ঘটনার বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নানা বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল।
শিক্ষার্থীরা যখন নিজেদের একটি সভা করছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে ছাত্রদল নেতারা সেখানে প্রবেশ করেন। তখন ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ তোলেন যে, নেতাদের সঙ্গে কোনো বহিরাগত ব্যক্তিরাও এসেছিলেন।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশি তদন্তের কথা জানিয়ে ওসি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ কোনো বহিরাগত মানুষের উপস্থিতি পায়নি।
ওসি মনিরুল ইসলাম আরও পরিষ্কার করেন যে, মূল সমস্যাটি আবর্তিত হচ্ছিল ছাত্রাবাসের সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ থাকাকে কেন্দ্র করে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্রুত সেই অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জোরালো দাবি জানান।
পরবর্তীতে পুলিশ প্রশাসন উভয় পক্ষের সঙ্গে বসে আলোচনা পরিচালনা করে। এই আলোচনার মাধ্যমেই ছাত্রাবাসের পরিবেশ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিএম কলেজের অশ্বিনীকুমার ছাত্রাবাসের সড়কে ঢালাইয়ের একদম শেষ পর্যায়ে এসে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়।
সেই সময় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বয়ং উপস্থিত হয়ে সেই নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এই ঘটনা নিয়ে ওই দিনই একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর