নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মোর্চা 'ইন্ডিয়া' জোটের পক্ষ থেকে আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে আয়োজিত হতে যাওয়া বহুল আলোচিত বিক্ষোভ সমাবেশটির প্রতি নিজেদের পূর্ণ সমর্থন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বিগত দিনে গতকাল বুধবার ডিজিটাল মাধ্যম তথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সুনির্দিষ্ট বিবৃতি প্রকাশ করার মাধ্যমে এই রাজনৈতিক দলটি ওই জনসমাবেশের প্রতি তাদের সংহতির কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই নির্দিষ্ট বিবৃতিতে সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় উচ্চারণ করে বলেছেন যে, জ্ঞানুকে অর্থাৎ সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে যেতেই হবে এবং কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তির চেয়ে দেশ সবার ওপরে স্থান পাবে।
এক্সে শেয়ার করা ওই বিশেষ পোস্টের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্রটি সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে আদ্যোপান্ত ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরেছেন। সেই সমর্থপত্রটিতে তিনি স্পষ্টভাবে লিখে জানিয়েছেন যে, এই দেশের মাটিতে একটি সম্পূর্ণ অবাধ ও নিরপেক্ষ তথা সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার মহান দায়িত্বে বিরোধীরা যে দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, সিজেপি সেই লড়াইয়ের সবসময় পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের জোরালো দাবি এবং একই সঙ্গে বিতর্কিত এসআইআর পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিলের সুনির্দিষ্ট দাবিতে আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে একটি বিশাল প্রতিবাদী সমাবেশের আনুষ্ঠানিক ডাক দিয়েছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া।
এসআইআর বা বিশেষ এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের বৈধ ও যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে ওই বিবৃতিতে পরিষ্কার ভাষায় বলা হয়েছে যে, ভোটাধিকার হলো যেকোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সেই সাংবিধানিক অধিকার সঠিকভাবে রক্ষা করার স্বার্থে নির্বাচন কমিশনের সর্বাত্মক নিরপেক্ষতা এবং জনগণের কাছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় থাকা একান্তভাবে দরকার।
সিজেপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, সুস্থ গণতন্ত্রের মূল কথাই হলো দেশের সাধারণ মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সরকার গঠন করবে, কিন্তু সরকার নিজ পছন্দমতো ভোটার নির্বাচন করবে তা কখনো হতে পারে না। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক নীতিটি এসআইআর প্রক্রিয়ার মারফত সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে জ্ঞানেশ কুমার তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছেন। নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা এবং জনগণের হারানো গ্রহণযোগ্যতা অবিলম্বে ফিরিয়ে আনতে হলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ করা অপরিহার্য বলে দলটির অভিমত।
ওই একই বিবৃতিতে ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে দেশের মূল সংবিধান প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য ও পটভূমিও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকর ও জওহরলাল নেহরুদের মতো দূরদর্শী সংবিধান প্রণেতাদের বিশেষ উল্লেখ করে সেখানে লেখা হয়েছে যে, নাগরিকের জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, শিক্ষাগত যোগ্যতা কিংবা আর্থিক পরিস্থিতি যার যেমনই হোক না কেন, প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের নিশ্চিত ভোটাধিকারের অধিকার রক্ষা করাই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য। তাঁদের সেই মহৎ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল অত্যন্ত সহজ, সরল এবং আরও অধিক সংখ্যক মানুষকে গণতন্ত্রের মূল ধারার মধ্যে টেনে আনা, তাঁদের কোনোভাবেই গণতন্ত্রের পরিধির বাইরে ফেলে রাখা নয়।
সিজেপি তাদের বিবৃতে আরও লিখেছে যে, বর্তমান সময়ে ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য নাগরিকদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে এসআইআর এক গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যেখানে স্বাভাবিক নিয়মে নাগরিকদের জন্য ভোটদান প্রক্রিয়া আরও সহজতর করে তোলার কথা, সেখানে আজ তার ঠিক উল্টোটা ঘটছে এবং ভোটার তালিকা থেকে নিজেদের নাম বাদ পড়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ সবসময় ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে দিন কাটাচ্ছে।
ককরোচ জনতা পার্টি তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যেসব রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, সিজেপি তাদের প্রত্যেককে সর্বদা নৈতিক সমর্থন ও সহযোগিতা করে যাবে।
সিজেপি এবং ইন্ডিয়া জোটের চূড়ান্ত রাজনৈতিক লক্ষ্য ও আদর্শ এক ও অভিন্ন হলেও এই দুই পক্ষ বর্তমানে তাদের নিজস্ব রণকৌশল অনুযায়ী আলাদাভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিপূর্বে সিজেপির আয়োজিত ‘যন্তর মন্তর ২.০’ নামক কর্মসূচিতে ইন্ডিয়া জোটের অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতাকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে দেখা গিয়েছিল। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনারাই বিজয়ন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মানিক সরকারদের মতো প্রভাবশালী সাবেক মুখ্যমন্ত্রীরাও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার বরণ করেছিলেন।
অবশ্য মূল ধারার দল হিসেবে কংগ্রেস সেই বিশেষ আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেনি। তবে সিজেপির আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসদের মতো নেতারা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সিজেপির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট ভাষায় লিখেছিলেন যে, যন্তর মন্তরে দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা কোনোমতেই কোনো অপরাধ হতে পারে না। আর এবার আসন্ন ১ নভেম্বরের ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানানোর মাধ্যমে তারা ফের প্রমাণ করল যে, এই দুই শক্তির মধ্যে আদতে কোনো দূরত্ব বা বিভেদ নেই।
আগামী ১ নভেম্বরের আসন্ন এই বিক্ষোভ সমাবেশটির প্রতি সিজেপি নৈতিক সমর্থন জানালেও দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা সেদিন সরাসরি রামলীলা ময়দানের সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে সিজেপির আহ্বায়ক দিপকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বা সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেননি।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর