নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ফরিদপুরের মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা দায়ের করা হয়েছে চলতি বছরের চৌদ্দই সেপ্টেম্বর। এই আইনি পদক্ষেপটি গ্রহণ করেছিলেন তাছলিমা বেগম, যেখানে তিনি মোট ছয়জন ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এই ঘটনার তদন্ত কাজ শুরু হয় এবং গত ছাব্বিশে অক্টোবর তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক ষষ্ঠী পদ রায়।
তদন্ত প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্যে প্রকাশ পেয়েছে যে, তাছলিমা বেগমের স্বামী হাবি মাতুব্বরকে অবৈধভাবে লিবিয়ায় পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এই উদ্দেশ্যে আসলাম মাতুব্বর মুরাদ বেপারীর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট চুক্তি সম্পন্ন করেছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মুরাদ বেপারী, আসলাম মাতুব্বর, শাহিন মাতুব্বর, মনির ফকির এবং তানিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাবি মাতুব্বরকে ইউরোপের দেশ ইতালিতে পাঠানোর নাম করে এই চক্রটি মানবপাচার ও চোরাচালানের মতো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
তবে এই সামগ্রিক তদন্ত প্রতিবেদনে বকুল মাতুব্বরকে সব ধরনের দায় থেকে সম্পূর্ণভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁর প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, বকুল মাতুব্বরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রাথমিক কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। আদালতের এই তদন্ত প্রতিবেদনের ফলাফল সামনে আসার পর থেকেই মামলার বাদী তাছলিমা বেগমের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন এবং ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বাদী তাছলিমা বেগমের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত বকুল মাতুব্বরের ছেলে পারভেজ মাতুব্বর বৈবাহিক সূত্রে বাগেরহাটের মান্দা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। এই পারভেজ মাতুব্বরের একজন চাচাশ্বশুর রয়েছেন যিনি সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ যুগ্ম সচিব পদে কর্মরত আছেন। তাছলিমা বেগমের দাবি অনুযায়ী, ওই প্রভাবশালী যুগ্ম সচিবের সরাসরি সুপারিশ এবং হস্তচেইনের ফলেই শেষ পর্যন্ত বকুল মাতুব্বরকে তদন্ত প্রতিবেদন থেকে সুকৌশলে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তাছলিমা বেগম গণমাধ্যমকে আরও জানান যে, গত পঁচিশে সেপ্টেম্বর জনশক্তি কার্যালয়ে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হচ্ছিল। সেই শুনানিপর্ব চলাকালীন সহকারী পরিচালক ষষ্ঠী পদ রায়ের মুঠোফোনে এক প্রভাবশালী যুগ্ম সচিব পরিচয়ে একটি ফোন কল আসে। বাদী তাছলিমা বেগমের নিজ চোখের সামনেই বকুল মাতুব্বরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে ওই যুগ্ম সচিব তাঁর কী হন। পরবর্তীতে বকুল মাতুব্বরের একটি একপক্ষীয় ও সাজানো বক্তব্য নথিতে যুক্ত করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে বকুল মাতুব্বর এই মানবপাচারের সঙ্গে বিন্দুমাত্র জড়িত নন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর