নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ক্যারিবিয়ানদের চেপে ধরতে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন দুই অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
দিনের শেষ অন্তিম সেশনে এই দুই স্নিপার মিলে প্রতিপক্ষের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করে দলকে শক্ত অবস্থানে ফিরিয়ে আনেন। আজও টাইগার শিবিরের ভরসার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই স্পিন জুটি।
প্রতিপক্ষকে দ্রুত অলআউট করতে মাঠের ভেতরে দারুণ সক্রিয় ছিলেন বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ।
বাউন্ডারি লাইনে ফিল্ডিং করার সময় তাইজুলের কাছে ছুটে যান মুশতাক। সেখানে দীর্ঘক্ষণ দুজনকে একান্তে আলোচনা করতে দেখা যায়, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল তাইজুলকে কোনো বিশেষ কৌশল বা টোটকা বাতলে দিচ্ছিলেন কোচ।
উভয় দলই তাদের মূল একাদশে তিনজন করে স্পিনার রেখে মাঠে নেমেছে, যা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় এই উইকেটে স্নিপাররা বাড়তি সুবিধা পাবে।
অবশ্য শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচে স্পিনারদের অতিরিক্ত সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি কোনো নতুন ঘটনা নয়।
উইকেটের এই সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসে পাঁচটি উইকেট নিজের ঝুলিতে পুরেছিলেন ক্যারিবীয় বোলার জোমেল ওয়ারকান।
এছাড়া সফরকারীদের ইনিংসে বাকি থাকা দুটি উইকেট শিকার করে নিজের পকেটে পুমেছিলেন আরেক বোলার জশুয়া বিশপ।
তবে এই ম্যাচে যে দেশীয় স্পিনাররাও সমানভাবে রাজত্ব করবে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনেই তাইজুল ও মিরাজের বোলিংয়ে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম পতনের শিকার হওয়া চারটির মধ্যে তিনটি উইকেটই নিজেদের দখলে নেন এই দুই সফল স্পিনার।
ইনিংসের ৩৬তম ওভারে প্রথমে কাভেম হজ এবং পরবর্তীতে আমির জাঙ্গোকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল।
এর আগে উইকেটে থিতু হয়ে ৫৪ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলা ওপেনার জন ক্যাম্পবেলকে চমৎকার বোলিংয়ে সাজঘরে ফেরান মিরাজ।
ম্যাচের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেও বল হাতে টাইগার শিবিরে আশার আলো জ্বেলে চলেছেন বোলাররা।
আজ দিনের খেলা শুরু হতেই তেজনারায়ণ চন্দরপলকে সাজঘরে ফিরিয়ে দলকে দিনের প্রথম সাফল্য এনে দেন পেসার শরীফুল ইসলাম।
এদিকে লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে ৪৬ রানের ইনিংস খেলা জাস্টিন গ্রিভসকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন স্পিনার নাঈম হাসান।
যদিও এর কিছুটা আগেই উইকেটের দেখা পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিলেন এই স্পিনার, যা হাতছাড়া হয়ে যায়।
নাঈমের করা একটি বল ব্যাটের ইনসাইড এজ হয়ে শর্ট লেগে ক্যাচ হিসেবে আসলেও তা লুফে নিতে ব্যর্থ হন ফিল্ডার মুমিনুল হক।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর