নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
বেকার যুবকেরা চাইলে নিজেদের কর্মসংস্থানের পথ নিজেদেরই তৈরি করে নিতে পারেন। কর্মজীবন শুরুর ক্ষেত্রে যেকোনো ছোট উদ্যোগ দিয়ে কাজ শুরু করা উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
কোনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাদের কাছে প্রস্তাব পেশ করা যেতে পারে যে প্রার্থীরা কিছুদিন নির্দিষ্ট কোনো বেতন ছাড়াই কেবল বিক্রির কমিশনের ভিত্তিতে কাজ করবেন। ওই প্রতিষ্ঠানের জন্য নানা ধরনের প্রচারসামগ্রী তৈরি করা, সাফল্যের নানান বিবরণী লেখা কিংবা সাক্ষাৎকারের রেকর্ড সংরক্ষণের মতো দায়িত্ব পালন করা যায়।
এছাড়াও বিক্রি বাড়ানোর কার্যক্রমেও সরাসরি অংশ নেওয়া সম্ভব। এই ধরনের প্রতিটি কাজই পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক আয় বৃদ্ধিতে জোরালো ভূমিকা পালন করে থাকে।
কোনো নবীন স্টার্টআপ কিংবা কোনো দূরদর্শী উদ্যোক্তার সঙ্গে কাজ করলে যে ধরনের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়, তার মূল্য ঘরে বসে হাজারটা চাকরির আবেদন করার চেয়ে অনেক বেশি।
চরম প্রতিকূল ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কেবল তারাই সুযোগ আদায় করে নিতে পারেন, যারা যেকোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষেত্রে পিছপা হন না এবং নিজ নিজ দক্ষতা প্রমাণের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে সামনে এগিয়ে আসেন।
সবসময় এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে যে অন্যকে দেওয়ার মতো মূল্যবান ও কার্যকর কিছু আপনার ভাণ্ডারেও নিশ্চিতভাবে মজুত রয়েছে।
এই ব্যতিক্রমী পন্থায় কর্মজীবন শুরু করলে নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের পরিধি বৃদ্ধি পায়, জীবন সম্পর্কে ধারণার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয় এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার গতিও বহুগুণ বেড়ে যায়।
সাধারণত নিয়োগকর্তারা এমন সব কর্মপ্রত্যাশীদের দলে ভেড়াতে বেশি পছন্দ করেন, যারা কাজের প্রতি গভীরভাবে মনোযোগী এবং নিজেদের ইতিবাচক মনোভাবের উপযুক্ত প্রমাণ দিতে সক্ষম।
তাই হাত গুটিয়ে বসে না থেকে সরাসরি কর্মযজ্ঞে যুক্ত হয়ে পড়ুন এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করতে থাকুন।
যতক্ষণ পর্যন্ত না আরও উন্নত কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ মিলছে কিংবা নিজের যোগ্যতার জোরে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে, ততক্ষণ এই প্রচেষ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়া উচিত।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো নেটওয়ার্কিং বা যোগাযোগ বাড়ানো। তাই এই কাজটি বারবার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নিজের এবং চারপাশের চেনা জানা সব মানুষের পরিচিত পরিমণ্ডলকে এক্ষেত্রে কাজে লাগাতে হবে।
এই প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার মধ্যে লজ্জার কোনো অবকাশ নেই। আপনার অত্যন্ত পরিচিত কেউ হয়তো এমন এক ব্যক্তিকে চেনেন, যিনি আবার এমন আরেকজনকে চেনেন যিনি আপনার কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারেন।
সেই পরিচিত মানুষটিই হয়তো একসময় আপনার সামনে নতুন চাকরির দরজা উন্মুক্ত করে দেবেন কিংবা কোনো জায়গায় আপনার পক্ষ হয়ে দুটি ভালো কথা বলে সুপারিশ করবেন।
দ্বিতীয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো, কারো সঙ্গে যোগাযোগের পর নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার প্রক্রিয়াটি কখনো থামিয়ে রাখা যাবে না।
কেউ যদি আপনাদের আশ্বস্ত করেন যে তিনি আপনার কথা অন্য কারো কাছে পৌঁছে দেবেন কিংবা একটি ইমেইল পাঠিয়ে দেবেন, তবে তাকে অবশ্যই তাৎক্ষণিকভাবে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে হবে।
তবে যোগাযোগের বিষয়টি কেবল কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়েই শেষ করে দেওয়া যাবে না। বরং আপনাদের নিজেদেরই সুনির্দিষ্ট করে ঠিক করে নিতে হবে যে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিয়ে পুনরায় ঠিক কবে নাগাদ আবার যোগাযোগ করা প্রয়োজন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর