ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গোয়ালন্দে খাবার দ্বন্দ্বে চিকিৎসাধীন নারী সহকারীর মৃত্যু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 31, 2026 ইং
গোয়ালন্দে খাবার দ্বন্দ্বে চিকিৎসাধীন নারী সহকারীর মৃত্যু ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মারামারির ঘটনায় এবার প্রাণ হারিয়েছেন নারী সহকারী সোনাবান বিবি (৬৫)। এর আগে একই হামলায় ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছিলেন মূল রাঁধুনি। শনিবার প্রত্যুষে রাজধানী ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়।

এর আগের দিন শুক্রবার দুপুরে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া এলাকার আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদ্রাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দুপুরের দিকে খাবার চেয়ে না পাওয়ার ক্ষোভে এক ব্যক্তি রান্নার কাজে ব্যবহৃত জ্বালানি কাঠ দিয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ রাঁধুনি ফজের আলী সরদার (৭০) এবং তাঁর নারী সহকারীর মাথা ও শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই রাঁধুনির প্রাণহানি ঘটে।

গুরুতর জখম হওয়া সোনাবান বিবিকে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর শহরের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে রাতেই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম।

নিহত রাঁধুনি ফজের আলী পার্শ্ববর্তী রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। অন্যদিকে নারী সহকারী সোনাবান বিবি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর দৌলতদিয়া এলাকার সিদ্দিক কাজীপাড়ার মৃত সাইমুদ্দিন শেখের সহধর্মিণী ছিলেন।

এই সহিংস ঘটনার পর স্থানীয় জনতা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত হামলাকারীকে পাকড়াও করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করেন। প্রথমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া না গেলেও পরবর্তীতে তাঁর পরিচয় উদ্ঘাটিত হয়। পুলিশি সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. সেন্টু (৪২), যিনি নাটোর সদর উপজেলার তেবাড়িয়া ইউনিয়নের একডালা দক্ষিণপাড়া গ্রামের অধিবাসী। তিনি প্রায় এক দশক পূর্বে নিজ গৃহ ত্যাগ করে ভবঘুরে জীবনযাপন বেছে নিয়েছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় অধিবাসীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মধ্যাহ্নভোজ রান্না সম্পন্ন করার পর মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশন করছিলেন ফজের আলী ও সোনাবান বিবি। এমন সময় সেখানে উপস্থিত হয়ে খাবার দাবি করেন সেন্টু। কিন্তু খাবার সরবরাহ করতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি কাছে থাকা রান্নার কাঠের টুকরা দিয়ে ফজের আলীর মাথা ও ঘাড়ে নির্বিচারে আঘাত হানেন। তাঁকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে গেলে সোনাবান বিবিকেও বেধড়ক প্রহার করা হয়। তাঁদের আর্তচিৎকারে আশেপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে হামলাকারীকে ধরে ফেলেন এবং পরে পুলিশ এসে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, নিহত ফজের আলীর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আটক সেন্টুর পরিবার জানিয়েছে যে তিনি প্রায় দশ বছর আগে ঘর ছেড়ে চলে যান এবং তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, খাবার না পেয়েই তিনি রাঁধুনি ও তাঁর সহকারীর ওপর চড়াও হন। বর্তমানে অভিযুক্ত সেন্টু গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইতালিতে তরুণদের বিক্ষোভ ও সহিংসতায় উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা

ইতালিতে তরুণদের বিক্ষোভ ও সহিংসতায় উদ্বিগ্ন প্রবাসীরা