নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক কিংবা দুটি বিষয়ে যারা ফেল করেছে, তারা আগামী এক মাসের ভেতরে শুধু ওই নির্দিষ্ট বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেতে যাচ্ছে। চলতি শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান।
প্রথম আলোকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এই বিশেষ পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট তারিখ, ফরম পূরণ করার সময়সীমা এবং ফি বাবদ কত টাকা জমা দিতে হবে, সেই সবকিছুর বিস্তারিত রূপরেখা আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা গেছে, আগামী ২ ডিসেম্বর এই সম্পূরক পরীক্ষাটি আয়োজন করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। শুধু তা-ই নয়, চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই এই পরীক্ষার মূল্যায়ন শেষ করে ফলাফল প্রকাশের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে এই বিশেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরাও উচ্চশিক্ষালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন।
উল্লেখ্য, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এতদিন এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল করলে তাকে পুরো একটি বছর অপেক্ষা করতে হতো এবং পরের বছরের নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হতো। সেই ব্যবস্থায় শুধু ফেল করা বিষয়গুলো অথবা পরীক্ষার্থী চাইলে সব বিষয়েই পুনরায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন, যার ফলে কেবল এক বা দুটি বিষয়ের জন্য একটি পুরো বছর অপচয় হতো।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কেবল দুটি বিষয়েই অকৃতকার্য হয়েছে এমন শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন। এর মধ্যে ঠিক একটি বিষয়ে ফেল করেছে এমন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুটি বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন।
অপরদিকে, ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উভয়েই এক ও দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের আগামী এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার এই সুযোগটির কথা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর