নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
খেলার দ্বিতীয় অর্ধে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের দুর্বলতার পূর্ণ ফায়দা লুটে নিয়েছে চেলসি। নিজেদের ঘরের মাঠে সফরকারীদের দুই গোলে পরাজিত করে টানা তৃতীয় পরাজয়ের হতাশায় ডুবিয়েছে তারা। এই হারের ফলে দলটির প্রধান কোচ মাইকেল ক্যারিকের ওপর চাকরি হারানোর চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সকল ধরণের টুর্নামেন্ট মিলিয়ে বর্তমান সময়ে টানা নয়টি ম্যাচে জয়শূন্য রয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। সুদূর ১৯৮৮ সালের অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসের পর ক্লাবটির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জয় না পাওয়ার লজ্জার রেকর্ড। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চলতি প্রতিযোগিতায় এটি তাদের চতুর্থ পরাজয় এবং এর মাধ্যমে তারা পয়েন্ট টেবিলের ১৬তম অবস্থানে নেমে গেছে। রেলিগেশন বা অবনমন অঞ্চলের চেয়ে তারা এখন মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
চলতি মৌসুমের শুরুর দিকে অত্যন্ত হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ডাগআউটে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে বদলানোর আরেকটি সুযোগ পেয়েছিলেন কোচ ক্যারিক। কিন্তু সেই সুযোগ লাভের মাত্র কয়েক দিন অতিবাহিত হতে না হতেই তাঁর ভবিষ্যৎ আবার চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধের সময়টায় বেশ আশাব্যঞ্জক এবং গোছানো ফুটবল উপহার দিয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তবে বিরতির পর সেই খেলার ধারা কিংবা তেজ ধরে রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় তারা।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় গোল হজম করে বসে সফরকারী দল। ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের মাঝের ফাঁকা জায়গা দিয়ে প্রায় কোনো রকম বাধা ছাড়াই সামনে এগিয়ে যান মরগান রজার্স এবং চেলসিকে ম্যাচের প্রথম গোল উপহার দেন।
এর ঠিক চৌদ্দ মিনিট বাদে পেনাল্টির মাধ্যমে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেন কোল পালমার। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি তথা ভিএআরের সাহায্য নিয়ে পরিষ্কার দেখা যায় যে, বলের দিকে একেবারেই নজর না দিয়ে ওয়েসলি ফোফানার মুখমণ্ডলে হাত দিয়ে আঘাত করেছেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।
এই মারাত্মক ভুলের খেসারত হিসেবে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের মুখোমুখি হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ম্যানচেস্টারের এই ডিফেন্ডার। পালমার পেনাল্টি থেকে সফল শটে গোল করার পর ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যায় চেলসির একক দখলে।
ম্যাচে চেলসির গোলের ব্যবধান আরও অনেক বড় হতে পারত। চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলার সুযোগ পাওয়া এস্তেভাও বল একবার প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়েছিলেন।
তবে অত্যন্ত সূক্ষ্ম অফসাইডের কারণে তাঁর সেই গোলটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়। কোচ জাবি আলোনসো এই ম্যাচেই তাঁকে প্রথমবার প্রিমিয়ার লিগে শুরু থেকে মাঠে নামার সুযোগ দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ম্যাচের প্রথমার্ধে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও একবার প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছিল। তবে কুনিয়ার করা কাছ থেকে নেওয়া হেডটি ভিএআরে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অফসাইডের কারণে বাতিল বলে গণ্য করা হয়।
এরপর পাওয়া ফিরতি সুযোগে ব্রুনো ফার্নান্দেসও গোল করার একটি দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন। দীর্ঘ বিরতির পর দলে ফিরে সরাসরি একাদশে জায়গা পাওয়া এই মিডফিল্ডার বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেন।
দলের আরেক খেলোয়াড় আমাদ দিয়ালোও দুই দফায় চেলসির গোলরক্ষক মাইক পেন্ডার্সকে একদম একা পেয়েও গোল করার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন। কিন্তু বিরতির পর আর প্রথমার্ধের সেই মানের ফুটবল মাঠে মেলে ধরতে পারেনি ইউনাইটেড।
ইউনাইটেডের উদার ও সাদামাটা রক্ষণাত্মক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে রজার্স চেলসিকে এগিয়ে নেন। এরপর মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মার্তিনেজের মাঠ ত্যাগ এবং পালমারের নিখুঁত পেনাল্টি গোল—সব মিলিয়ে ম্যাচের নাতিদীর্ঘ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের মুঠোয় পুরে নেয় স্বাগতিকরা।
খেলার এক পর্যায়ে এস্তেভাওয়ের একটি চমৎকার প্রচেষ্টা সামান্যর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরবর্তীতে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা ভ্যালেন্তিন বারকোও ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে একটি সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।
যদি তারা এই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারত, তবে চেলসির জয়ের ব্যবধান এই ম্যাচের চেয়ে আরও অনেক বেশি বড় হতে পারত।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড ব্রায়ান এমবুমোর একটি জোরালো শট ক্রসবারে সজোরে লেগে মাঠে ফিরে আসে। তবে এতে ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
সপ্তাহের বাকি দলগুলোর মধ্যকার ম্যাচের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ক্যারিকের দল খুব শীঘ্রই পয়েন্ট তালিকার অবনমন অঞ্চলের তিন দলের একটি হিসেবে নিচে নেমে যেতে পারে। অন্যদিকে এই জয়ের সুবাদে চেলসি পয়েন্ট টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর