ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নিষেধাজ্ঞা ও ঋণে বিপর্যস্ত পিরোজপুরের উপকূলীয় জেলেরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2026 ইং
নিষেধাজ্ঞা ও ঋণে বিপর্যস্ত পিরোজপুরের উপকূলীয় জেলেরা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

পিরোজপুরের উপকূলীয় অঞ্চলে ইলিশ শিকারে নানা সংকটের মুখোমুখি হওয়া জেলেদের জীবনযাত্রা ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। সাগরে মাছ না পাওয়ার হতাশা এবং নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ির কারণে এই পেশার মানুষদের নিত্যদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

রাসেল নামের এক জেলে জানিয়েছেন, পেশাটি অনেকেই ইতোমধ্যে বর্জন করেছেন এবং যারা টিকে আছেন, তারা বাধ্য হয়েই এটি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। মাছ ধরার এই পেশায় এখন আর কোনো আর্থিক লাভ নেই বললেই চলে।

মাথার ওপর ভারী ঋণের বোঝা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন জেলেরা। গভীর সমুদ্রে গিয়ে পর্যাপ্ত মাছ মেলে না, আর এর ওপর নিষেধাজ্ঞা, ঝড়, বন্যা ও বৈরী আবহাওয়া তাদের সংকট আরও ঘনীভূত করছে।

সরকারের কাছে কম সুদে ঋণ পাওয়ার দাবি জানিয়ে ওই জেলে বলেন, তারা সন্তানদের সুনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ চান।

এদিকে ট্রলার মালিক ইনসান জানান, আগে যেখানে দুই শ লিটার জ্বালানি তেলের দাম ছিল বাইশ থেকে চব্বিশ হাজার টাকা, তা বেড়ে এখন হয়েছে ঊনত্রিশ হাজার টাকা।

তেল চড়া দামে কেনার পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে শ্রমিকদের মজুরিও। সাগরে টানা পনেরো দিন অবস্থান করে মাছ ধরতে হয়, কিন্তু মাঝপথে আবহাওয়া খারাপ হলে তীরে ফিরে আসতে বাধ্য হন তারা。

এতসব ভোগান্তি পেরিয়েও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। ফলে শুধু সাধারণ জেলেই নন, ট্রলার মালিকদের জীবনও আজ গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

দক্ষিণ উপকূলীয় মৎস্য কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান হতাশা প্রকাশ করে বলেন, জেলেরা চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং প্রত্যেকের কাঁধেই রয়েছে ঋণের বোঝা।

সংসার চালাতে গিয়ে তাদের প্রতি মুহূর্তে তীব্র কষ্টের মুখোমুখি হতে হয় উল্লেখ করে তিনি সরকারকে ২২ দিনের অবরোধকালে বরাদ্দকৃত ২৫ কেজি চালের পরিমাণ আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানান।

জেলা মৎস্য অফিসের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পিরোজপুর জেলার মোট সাতটি উপজেলায় সমুদ্রগামী নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ২০ হাজার ৯৪৫ জন।

নিবন্ধিত এই জেলেদের প্রত্যেককে সরকারি সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে মোট ৫২৩ দশমিক বাষট্টি মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত নিশ্চিত করেছেন যে, ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধের এই ২২ দিনের সময়ে জেলেদের সহায়তার জন্য তাদের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
পার্ক দে প্রিন্সেসে বার্সেলোনাকে চাপে রাখতে প্যারিস সমর্থকদে

পার্ক দে প্রিন্সেসে বার্সেলোনাকে চাপে রাখতে প্যারিস সমর্থকদে