নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলায় দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট পাজ নিজের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এল নিনোর প্রত্যক্ষ প্রভাবে দেশজুড়ে খরা ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত মারাত্মক ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
এমন সঙ্কটময় পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য সরকারের পাশাপাশি দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি গুরুত্বের সঙ্গে মন্তব্য করেছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক প্রতিবেদনে ভয়ংকর সব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ওই তথ্য অনুযায়ী, বলিভিয়ায় মোট নয়টি প্রশাসনিক বিভাগ রয়েছে।
এর মধ্যে বর্তমানে ছয়টি বিভাগেই তীব্র খরা জেঁকে বসেছে। খরায় জর্জরিত এসব অঞ্চলে প্রায় ৭৮ হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
শুধু মানুষের জীবনযাত্রাই নয়, জলবায়ুর এই চরম বিপর্যয়ের ফলে দেশটিতে ইতোমধ্যে মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। খরার মারাত্মক প্রভাবে বলিভিয়ায় ৭৫ হাজারেরও বেশি গবাদিপশু প্রাণ হারিয়েছে।
খরা পরিস্থিতি ছাড়াও দক্ষিণ আমেরিকার এই রাষ্ট্রটিতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও অত্যন্ত প্রবল বলে সতর্ক করা হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বলিভিয়ায় সান্তা ক্রুজ অঞ্চলে একটি ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক বন্যা আঘাত হেনেছিল। সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
শুধু বলিভিয়া নয়, দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চলেও আবহাওয়া চরম আচরণ করছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রতিবেশী রাষ্ট্র চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে গত অক্টোবরে অস্বাভাবিক ও রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চিলির মতো দেশের পাশাপাশি পেরুতেও সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হেনেছে। গত মাসে পেরুতে সংঘটিত ভয়াবহ দাবানলের আগুনে পুড়ে অন্তত ১২ জন মানুষের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর