ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জিয়াউল আহসানকে আলাদা আনা নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতে ট্রাইব্যুনালের প্রশ্ন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 1, 2026 ইং
জিয়াউল আহসানকে আলাদা আনা নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতে ট্রাইব্যুনালের প্রশ্ন ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

রাষ্ট্রপক্ষের নেওয়া একটি কৌশলগত অবস্থান নিয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনাকর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে অন্য বন্দিদের সঙ্গে একই যানবাহনে বহন করা হলে সেই গাড়ির আর সবাই ঝুঁকিতে পড়তে পারেন—রাষ্ট্রপক্ষের এমন যুক্তির উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত।

রোববার নির্ধারিত দিনে ট্রাইব্যুনাল-২-এর এজলাসে এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির নির্ধারিত সময় ছিল। মতিঝিল এলাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন মহাসমাবেশ কেন্দ্র করে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় মোট একচল্লিশজন অভিযুক্ত রয়েছেন, যার ভেতর বর্তমান সময়ে এগারোজন বন্দি অবস্থায় আটক আছেন।

আজকের বিচারিক কার্যক্রমে সাবেক পুলিশপ্রধান এ কে এম শহীদুল হক এবং অভিযুক্ত জিয়াউল আহসান বাদে বাকি নয়জন অভিযুক্তকে আদালতে সশরীরে হাজির করা হয়। এর মধ্যে সাবেক আইজিপি অসুস্থ থাকায় তাঁকে উপস্থিত রাখা সম্ভব হয়নি, তবে ঠিক কী কারণে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি, সে বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা তলব করে আদালত।

আদালত প্রশ্ন রেখে বলেন, বন্দি কোনো ব্যক্তিকে কারাটেবিল থেকে আদালতের সামনে উপস্থিত করা কি কোনোভাবে ক্ষমতার অপব্যবহারের পর্যায়ে পড়ে? এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী মোহাম্মদ জহিরুল আমিন যুক্তি দিয়ে জানান যে কোনো অভিযুক্ত যদি বিচারিক প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করতে চান অথবা বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেন।

তখন আদালত এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, নিজেদের ইচ্ছায় কি কোনো বিচারাধীন বন্দি আদালতে আসতে অস্বীকার করতে পারেন? তাদের তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই বলপ্রয়োগ বা নিয়মের মাধ্যমে আদালতে হাজির করতে হয়।

পরবর্তীতে আদালতের পক্ষ থেকে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমকে উদ্দেশ করে বলা হয়, ভিডিও কনফারেন্স বা ভার্চ্যুয়ালের বিধানের কথা কোন জায়গায় উল্লেখ রয়েছে, তা যেন তিনি আদালতের সামনে তুলে ধরেন।

অভিযুক্ত জিয়াউল আহসানকে সশরীরে আদালতে হাজির না করার পেছনের কারণ তুলে ধরতে গিয়ে কৌসুলী গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জানান যে পূর্বে জিয়াউল আহসানকে সম্পূর্ণ একাই একটি আলাদা গাড়িতে যাতায়াত করানো হতো। নিজের জীবনের ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে এমন শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আদালতে একটি লিখিত আবেদন করেছিলেন এবং তাঁর আর্জি ছিল যেন তাঁকে অন্য সহ-অভিযুক্তদের সঙ্গে একই যানবাহনে আনা-নেওয়া করা হয়।

কৌসুলী গাজী মোনাওয়ার আরও বলেন, জিয়াউল আহসানের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার যে অভাবের কথা বলা হয়েছে, সেটার সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষও একমত পোষণ করে। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষ থেকে লিখিত প্রার্থনা করা হয়েছিল যে অন্য সকল অভিযুক্তের সঙ্গে জিয়াউলকে যাতায়াত করালে সেই গাড়িতে থাকা বাকি ব্যক্তিরাও বিপদের মুখে পড়তে পারেন। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন জিয়াউলকে কারাগার থেকেই ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত করা হয়। এই বিশেষ আদেশের কারণেই তাঁকে সরাসরি ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়নি।

অন্য একটি পৃথক ঘটনায় শতাধিক মানুষকে বলপূর্বক গুম ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা আরেকটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করার সময় অভিযুক্ত জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনাল-১-এর কার্যক্রমে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।

এদিকে ট্রাইব্যুনাল-২ পুনরায় উল্লেখ করেন যে অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে অভিন্ন যানবাহনে জিয়াউলকে যাতায়াত করালে সেই গাড়িতে থাকা প্রত্যেকটি মানুষ হুমকির মুখে পড়তে পারেন—রাষ্ট্রপক্ষ এমন অদ্ভুত চিন্তাভাবনা বা বুদ্ধি কোথায় পেলো।

এর প্রত্যুত্তরে কৌসুলী গাজী মোনাওয়ার আদালতকে জানান যে তাঁর উপস্থাপিত বক্তব্য সম্পূর্ণ সঠিক রয়েছে। যেহেতু অভিযুক্ত জিয়াউল আহসান নিজের জীবন হারানোর প্রবল আশঙ্কায় ভুগছেন, সেইহেতু তাঁকে অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে একত্রে আনলে তারাও সমপর্যায়ের ঝুঁকির আওতায় চলে আসবেন।

আদালত এই বিষয়ে আরও গভীরে গিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ১২ নভেম্বর ধার্য করেন।

শাপলা চত্বরের এই মামলার শুনানিকালে আজ ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী মো. আবদুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. শামসুল হক টুকু, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি মোহা. আবদুল জলিল মণ্ডল, সংবাদিক মোজাম্মেল বাবু এবং সাবেক সংবাদকর্মী ফারজানা রুপা।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
পূর্বনির্ধারিত স্থানেই শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দাবির পক্

পূর্বনির্ধারিত স্থানেই শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দাবির পক্