নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, পরীক্ষার খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না হওয়া, বেশ কিছু বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ফলাফল খারাপ হওয়া এবং জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণেই মূলত এই ফল বিপর্যয় ঘটেছ।
তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালের পর এই প্রথম এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার এত বেশি পরিমাণে কমে গেছে। সে বছর সামগ্রিক পাসের হার ছিল মাত্র ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ, আর তার পরের বছর অর্থাৎ ২০০৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯ দশমিক ০৭ শতাংশে; মূলত এই ২০০৫ সাল থেকেই দেশজুড়ে পাসের হার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছিল।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন বা ইউজিসির দেওয়া তথ্যাদি থেকে জানা যায় যে, দেশের ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক বা আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে সর্বমোট আসনসংখ্যা রয়েছে ৬৩ হাজার ৬৫৬টি।
অন্যদিকে দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য ৫ হাজার ১০০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজে আসনসংখ্যা হলো ৬ হাজার ২৭৮টি।
পাশাপাশি সরকারি ডেন্টাল কলেজগুলোতে ৫৪৫টি এবং বেসরকারি ডেন্টাল কলেজগুলোতে ১ হাজার ৩৫০টি আসন চালু রয়েছে, আর আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
দেশের ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক কোর্সের জন্য ৪ লাখ ১০ হাজার আসন এবং পাস কোর্সের জন্য ১ হাজার ১৬০টি আসন নির্ধারিত আছে।
এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজগুলোর স্নাতক পাস, স্নাতক সম্মান এবং কারিগরি বা সমমানের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট আসনসংখ্যা ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫টি।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন মাদ্রাসার জন্য ১১ হাজার ৫৫টি এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৪২ হাজার ৪৩৪টি আসন বরাদ্দ রয়েছে।
একই সঙ্গে দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে ৭২০টি, টেক্সটাইল কলেজগুলোতে ৭২০টি এবং মেরিন কলেজগুলোতে ৬৬০টি আসন সংরক্ষিত আছে।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজসমূহের জন্য ৩ হাজার ৭৯০টি এবং আন্তর্জাতিক বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ৮০০টি আসন রয়েছে।
সবশেষে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষার জন্য দেশে ৫ হাজার ৬০০টি আসন চালু রয়েছে বলে ইউজিসির তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ব্যক্তিরা অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় চমৎকার ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মূল লক্ষ্যই থাকে দেশের খ্যাতনামা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়া।
চলতি বছর এই শীর্ষস্থানীয় ও মানসম্মত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সর্বমোট আসনসংখ্যা রয়েছে ৬০ হাজার, যার বাইরে হাতে গোনা কিছু মেধাবী শিক্ষার্থী দেশের নামকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশেষায়িত বিষয়ে পড়াশোনা করার উদ্দেশ্যে ভর্তি হয়ে থাকেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর