নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
ফ্লাডলাইটের উজ্জ্বল আলোয় সেজে ওঠা জাতীয় স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে একে একে পা রাখেন আলফাজ আহমেদ, আমিনুল হক, আরমান মিয়া, এনামুল হক, জাহিদ হাসান এমিলি ও মামুনুল ইসলামদের মতো তারকারা। ২০০৩ সালের সাফজয়ী কিংবা ২০১০ সালের এসএ গেমসে সোনাজয়ী দলের জার্সি গায়ে জড়ানো এসব খেলোয়াড়ের বয়স বাড়লেও মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ফিরে আসে তাঁদের পুরোনো সেই দিনগুলো।
পায়ের নিখুঁত ছোঁয়া আর চোখেমুখে জয়ের সেই পরিচিত খিদে নিয়েই তাঁরা মাঠে নেমে পড়েন। জাতীয় স্টেডিয়ামের এই মাঠেই ২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের স্বাদ পেয়েছিল এবং তার ঠিক সাত বছর বাদে একই ভেন্যুতে এসএ গেমসের ফুটবলে অর্জিত হয়েছিল কাঙ্ক্ষিত সোনার পদক।
আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে কেন্দ্র করেই মূলত এই দুই গৌরবময় দলের নায়কদের এক মঞ্চে নিয়ে আসা হয়েছিল। বিকেল পাঁচটায় মাঠে গড়ানো ৬০ মিনিটের এই প্রদর্শনী ম্যাচে অবশ্য কোনো পয়েন্ট কিংবা শিরোপার কোনো চাপ ছিল না, বরং পুরোনো সতীর্থদের সঙ্গে নিয়ে স্মৃতির সরণি বেয়ে অতীতে হারিয়ে যাওয়ার এক দারুণ আনন্দ কাজ করছিল সবার মাঝে।
ম্যাচ শুরুর মাত্র দুই মিনিটের মাথাতেই জাহিদ হোসেনের দারুণ এক গোলে এগিয়ে যায় এসএ গেমসের সোনাজয়ী দল। তবে এর কিছুক্ষণ পরেই পেনাল্টি থেকে সফল স্পটকিকে বল জালে জড়িয়ে ২০০৩ সালের সাফজয়ী দলকে সমতায় ফিরিয়ে আনেন ফরোয়ার্ড আলফাজ আহমেদ।
খেলার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ২০১০ সালের সোনাজয়ী দলটি। ম্যাচের একেবারে শেষভাগে এসএ গেমসের দল পেনাল্টি পেলেও গোলের ব্যবধান বাড়াতে ব্যর্থ হয়, কারণ আমিনুল হকের নেওয়া শটটি সহজেই প্রতিহত করেন গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য।
তবে ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোরলাইন ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে দুই ভিন্ন যুগের সেরা তারকাদের এই পুনর্মিলনী। ২০০৩ সালের সাফ ফাইনালের দিনগুলোতে এই মাঠে রজনীকান্ত, আলফাজ ও আমিনুলরা উঁচিয়ে ধরেছিলেন শিরোপা, আর ২০১০ সালে জাহিদ, ইউসুফ, মিন্টু, এনামুল ও এমিলিরাও একই ভেন্যু থেকে স্বর্ণপদক জয়ের অমলিন স্মৃতি নিয়ে ফিরেছিলেন।
সেদিনের সেই অবিস্মরণীয় বিজয়ের মুহূর্তগুলো যেন খেলোয়াড়দের চোখের সামনে আবার জীবন্ত হয়ে ওঠে। ম্যাচের প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক সেই মুহূর্তে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং ২০০৩ সালের সাফজয়ী দলের প্রয়াত কোচ জর্জ কোটানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
দুই ঐতিহাসিক দলেরই গর্বিত সদস্য ও বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই প্রদর্শনী ম্যাচে দুই পক্ষেই নিজের নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। তিনি প্রথমার্ধে ২০০৩ সালের সাফজয়ী দলের ৯ নম্বর জার্সি এবং দ্বিতীয়ার্ধে এসএ গেমসের দলের ১ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন।
সামনে থাকা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আসরে পুরো বাংলাদেশ দলকে মানসিকভাবে অনুপ্রেরণা জোগাতেই এই বিশেষ প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিল। ম্যাচ শেষে আমিনুল হক গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান যে আগামী ৫ নভেম্বর থেকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হতে যাচ্ছে এবং জাতীয় দলকে শুভকামনা ও উৎসাহ জানাতেই দুই দল মিলে এই ম্যাচটি খেলেছে।
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মাঠের লড়াই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও জাতীয় স্টেডিয়ামের চত্বরে তখনো ২০০৩ ও ২০১০ সালের সেই সোনালি অধ্যায়ের রোমাঞ্চকর গল্পগুলো ফুরিয়ে যায়নি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর