ঢাকা | বঙ্গাব্দ

এলএনজি টার্মিনালের সংস্কারে দেশজুড়ে কমল গ্যাস সরবরাহ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 4, 2026 ইং
এলএনজি টার্মিনালের সংস্কারে দেশজুড়ে কমল গ্যাস সরবরাহ ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ বুধবার সকালের দিকে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাবে গোটা দেশজুড়েই গ্যাসের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার এই অস্বস্তিকর অবস্থা আরও তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহের চাপ কিছুটা কম থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে পেট্রোবাংলা নিশ্চিত করেছে যে, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কোনো ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন বা পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল আটটার সময় সারা দেশে মোট গ্যাসের সরবরাহ ছিল ২৫৪ কোটি ঘনফুট। সেই নির্দিষ্ট সময়ে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল ৯৭ কোটি ঘনফুট।

পরবর্তীতে সকাল ১০টার দিকে দেশের মোট গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে মাত্র ২০৮ কোটি ঘনফুটে এসে দাঁড়ায়। এর মধ্যে এলএনজি খাত থেকে সরবরাহকৃত গ্যাসের পরিমাণ নেমে আসে ৫১ কোটি ঘনফুটে।

হিসাব অনুযায়ী, এই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ সরাসরি ৪৬ কোটি ঘনফুট কমে গেছে। সরবরাহ হ্রাসের এই পরিসংখ্যান পরিস্থিতিকে বেশ স্পষ্ট করে তোলে।

এদিকে গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে টানা চার দিন ধরে দেশব্যাপী গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে মর্মে একটি তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এই ধরনের ভিত্তিহীন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক তৈরি হয় এবং অনেকে এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। মূলত গ্যাসের চাপ হ্রাসের স্বাভাবিক সংবাদ থেকেই এই ভুয়া তথ্যের সূত্রপাত ঘটেছিল।

এর আগে গত ১ নভেম্বর পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, এলএনজি সরবরাহ কিছুটা হ্রাসের কারণে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে টানা চার দিন গ্যাসের চাপ কম থাকবে।

গ্যাস খাতের বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সংগৃহীত এলএনজি রূপান্তর করে মূল পাইপলাইনে সরবরাহ করার জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন করা আছে।

এই দুটি টার্মিনালের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কাজ পরিচালনার জন্যই মূলত চার দিন সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পূর্বঘোষিত এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অংশ হিসেবে গত ৪ নভেম্বর সকাল আটটা থেকে আগামী ৭ নভেম্বর বিকেল চারটা পর্যন্ত সামিটের মালিকাধীন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই গুজবের বিষয়টি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন তথা পেট্রোবাংলার নীতিিনির্ধারকদের গুরুতর নজরে এসেছে।

পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে গতকাল মঙ্গলবার পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, আগামী চার দিন ধরে দেশে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে—এমন ভুয়া দাবি তুলে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পুরোনো বা ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করেছে।

মহলটি অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরনের মনগড়া গুজব রটিয়ে সাধারণ জনগণের মনে অনর্থক আতঙ্ক সৃষ্টি করার এক গভীর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

পেট্রোবাংলার দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, তাদের দুটি ভাসমান টার্মিনাল একসঙ্গে মিলিয়ে দৈনিক মোট ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে।

সাধারণত এই টার্মিনালগুলো থেকে নিয়মিতভাবে ৯২ থেকে ৯৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তবে সংস্কার কাজের দিনে আজ দুপুর দুইটায় সরবরাহ নেমে আসে মাত্র ৫৪ কোটি ঘনফুটে।

এর আগে চলতি বছরের গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস জুড়েই দেশে গ্যাসের মারাত্মক ও ব্যাপক সংকট বিরাজ করেছিল।

সে সময় গ্যাসের তীব্র ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছিল এবং দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল।

এছাড়া পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে সে সময় দেশের শিল্পকারখানাগুলো তাদের নির্ধারিত পুরো সক্ষমতা অনুযায়ী চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

গ্যাসের সেই তীব্র সংকটের কারণে রান্নার কাজে এবং সাধারণ যানবাহনের চলাচলেও নগরবাসীসহ দেশের মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছিল।

সূত্র: জাতীয় দৈনিক আমার সকাল টিম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
টঙ্গীতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, দম্পতির মৃত্যু ও মেয়ে সংকট

টঙ্গীতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, দম্পতির মৃত্যু ও মেয়ে সংকট