নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী বিপর্যয়ের পেছনে ব্যালট পেপারে নিজের নাম না থাকাকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ডারলিন গ্রাহামের পরাজয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে লিন্ডসে গ্রাহাম যদি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন, তবে তাঁর ফলাফল অন্যরকম হতে পারত এবং তাঁর বিশ্বাস তিনি জয়লাভ করতেন।
দলের এই ব্যাপক পরাজয়ের পরও নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের কার্যকাল নিয়ে তাঁর মনে কোনো ধরনের অনুশোচনা কাজ করছে না। বরং তিনি জোরালোভাবে দাবি করেন যে যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের শাসনকালের ইতিহাসে এই সময়টিই সবচেয়ে বেশি সফল হিসেবে পরিগণিত হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে জড়ানোর মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েও নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেননি তিনি। একই ধরনের পরিস্থিতি যদি ভবিষ্যতে আবারও তৈরি হয়, তবে তিনি অবিকল একই সিদ্ধান্তই গ্রহণ করবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
তেল বা জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের মনে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে বলে তিনি খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেন। তাঁর মতে, ডেমোক্র্যাটদের ইরানের বিষয়টি নিয়ে কোনো আপত্তি না থাকলেও তারা সম্ভবত জ্বালানির উচ্চমূল্যে সন্তুষ্ট ছিল না।
দেশের ভবিষ্যৎ ও গোটা পৃথিবীর বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করেই ইরানের বিরুদ্ধে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, সেই সময়ে নেওয়া পদক্ষেপটি ছিল অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সময়োপযোগী একটি সিদ্ধান্ত।
ডেমোক্র্যাট দলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং যৌথভাবে কাজ করার লক্ষে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে কোন কোন ডেমোক্র্যাট নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, সেই বিষয়ে তিনি কোনো নাম প্রকাশ করতে চাননি।
জাতীয় ঋণসীমা বা ডেট সিলিং সংক্রান্ত ইস্যুটিতে বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। তাঁর হাতে ভেটো ক্ষমতা থাকায় ডেমোক্র্যাটদেরই তাদের কাছে আসতে হবে এবং তাদের পক্ষ থেকে কোনো ভালো প্রস্তাব আসলে তিনি তা নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত।
নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেওয়ার এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে যখন দীর্ঘ এক বছর ধরে তিনি মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন। মঙ্গলবারের দিনে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে অমার্কিন ভোটারদের গ্রেপ্তারের অঙ্গীকার করে, যদিও এমন ভোটারদের খুঁজে পেতে প্রশাসনকে বেশ বেগ পেতে হয়।
গত মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে বসে শীর্ষস্থানীয় সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী ফলাফলের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই সময় তাঁর সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চে।
এছাড়াও সেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বৈঠকে প্রশাসনের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকও সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পিছিয়ে পড়ার খবর আসতে শুরু করলে পুরো হোয়াইট হাউস চত্বরের পরিবেশ মুহূর্তেই বিষণ্ন ও শোকাবহ হয়ে ওঠে। রাত দশটা বাজার আগেই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত কয়েকজন অতিথি বাধ্য হয়ে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করেন।
শহরের বাইরে অবস্থান করার কারণে সেই কঠিন সময়ে অনুপস্থিত থাকতে পেরে ট্রাম্পের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ মিত্র ব্যক্তিগতভাবে চরম স্বস্তি অনুভব করেছেন।
নির্বাচনী ফলাফলের নিম্নমুখী ধারা দেখে সন্ধ্যাজুড়ে নিজের রাজনৈতিক সহযোগীদের ওপর তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁকে। ভোটের আগে জনমত জরিপ নিয়ে তাঁকে ভুল তথ্য সরবরাহ করা হয়েছিল বলে তিনি উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযোগ আনেন।
তবে প্রেসিডেন্টের এই ক্ষোভ প্রকাশের বিষয়টি পুরোপুরি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন হোয়াইট হাউসের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন যে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও তিনি এজেন্ডা বাস্তবায়ন থামাবেন না।
প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা এবং সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে আরও বেশি পাকাপোক্ত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রয়োজন সাপেক্ষে ডেমোক্র্যাটদের আনা যেকোনো বিলে ভেটো দিতে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত আছেন বলে ফোনালাপে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। তাঁকে ‘মি. ভেটো’ নামে অভিহিত করা হলে তিনি সানন্দেই সেই ডাকনাম গ্রহণ করবেন বলে মন্তব্য করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর