নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় বিভিন্ন তথ্য গোপনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছেন সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রার্থী আমির হামজা তাঁর স্ত্রীর আয়কর রিটার্ন জনসমক্ষে প্রকাশ করেননি। এছাড়া তাঁর স্ত্রীর মালিকানাধীন কৃষি ও অন্যান্য খাতের সম্পত্তির সঠিক হিসাবও হলফনামায় প্রদর্শন করা হয়নি।
কুষ্টিয়া শহরে মুফতি আমির হামজার নিজের নামে একটি আবাসিক প্লট রয়েছে, যার তথ্যও হলফনামা থেকে গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
শুধু স্থাবর সম্পত্তিই নয়, প্রার্থীর ব্যবহৃত ব্যক্তিগত গাড়ির বাজারমূল্য, আবাসন ভাড়ার আয়, পারিবারিক জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নির্বাচনী প্রচারকাজের খরচের হিসাবেও নানা অসঙ্গতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।
পাশাপাশি, হলফনামায় প্রদর্শিত সোনার পরিমাণ এবং অন্যান্য খাতের সম্পদের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন আবেদনকারী সিরাজুল ইসলাম।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯১(৫) ধারা অনুযায়ী এই সমস্ত অভিযোগের একটি নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ আনুষ্ঠানিক তদন্ত পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে ওই আবেদনে।
তদন্তে যদি আনীত অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে একই আদেশের ৯১(২) ধারা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট নির্বাচিত প্রার্থীর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা ও নির্বাচন বাতিলসহ সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
ইসি বরাবর দাখিল করা এই আবেদনের সঙ্গে আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামার অনুলিপি, তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর আয়কর-সংক্রান্ত কাগজপাতি যুক্ত করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী, ব্যক্তিগত গাড়ির প্রাতিষ্ঠানিক নিবন্ধন এবং অন্যান্য সম্পত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্রও প্রমাণের জন্য সংযুক্ত করা হয়েছে বলে আবেদনে বলা হয়েছে।
অভিযোগকারী সিরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান যে, তিনি কুষ্টিয়া-৩ আসনের একজন নিবন্ধিত ভোটার ও সচেতন নাগরিক হিসেবেই এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও বলেন যে, আমির হামজার দাখিলকৃত নির্বাচনী হলফনামার বিভিন্ন অংশে যথেষ্ট অসঙ্গতি রয়ে গেছে, যা জনসমক্ষে পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
সব অভিযোগের একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন এই আবেদনকারী।
এদিকে এই পুরো ঘটনার বিষয়ে কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু করে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে ফোন ধরা না হওয়ায় এই অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কোনো ধরনের বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর