নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
দোয়া কবুল হওয়ার স্থান হিসেবে পরিচিত ‘ইজাবাহ’ মসজিদটি মদিনা নগরীতে অবস্থিত। এই প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ‘মসজিদে বনি মুয়াবিয়া’ কিংবা ‘মসজিদে মুবাহালা’ নামেও বেশ পরিচিত।
সহিহ মুসলিমের একটি বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এই পবিত্র মসজিদে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেছিলেন। এরপর তিনি তাঁর উম্মতের কল্যাণের উদ্দেশ্যে মোট তিনটি বিশেষ দোয়া করেছিলেন।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন উম্মতের ওপর থেকে সর্বগ্রাসী দুর্ভিক্ষ এবং পানিতে ডুবে ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষার প্রথম দুটি প্রার্থনা কবুল করেছিলেন। তবে উম্মতের মধ্যকার পারস্পরিক কোন্দল বা বিভেদ দূর করার তৃতীয় দোয়াটি আল্লাহর হিকমতে মঞ্জুর হয়নি।
পরবর্তীতে এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতিচারণ করতেই মসজিদটির নামকরণ করা হয় ‘মসজিদ আল-ইজাবাহ’। ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের এই ঘটনাটি মুসলিম উম্মহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
অন্যদিকে, মসজিদে নববির দক্ষিণ দিকে রিং রোডের কাছাকাছি হাঁটা দূরত্বেই অবস্থিত ‘মসজিদে বিলাল (রা.)’। ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মুয়াজ্জিন হজরত বিলাল ইবনে রাবাহ (রা.)-এর অম্লান স্মৃতির স্মারক হিসেবে এটি দাঁড়িয়ে আছে।
ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারে হজরত বিলাল (রা.)-এর অসীম ত্যাগ, ধৈর্য এবং প্রখর ইমানের প্রতি গভীর সম্মান জানিয়েই এই মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে।
বর্তমান এই আধুনিক অবকাঠামোর নিচতলায় বিভিন্ন ধরনের শপিং মল ও নানা দোকানপাট রয়েছে। আর এর ওপরের অংশটি মুসল্লিদের জন্য একটি সুপরিসর নামাজের জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
মদিনায় জিয়ারতে আসা পুণ্যার্থীরা নিয়মিত এই ঐতিহাসিক স্থানে এসে ইসলামের শুরুর যুগের আত্মত্যাগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর