নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
মিশ্র মার্শাল আর্টের বিশ্বমঞ্চে অবিশ্বাস্য সাফল্য পেলেও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন তারকা লড়াকু ঝাং ওয়েইলি। খেলার ময়দানের এই বড় জয়গুলো তাঁর বাস্তব জীবনের ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানে কোনো ধরনের সাহায্য করতে পারছে না বলেই তিনি মন্তব্য করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা ট্রল ও নানা ধরনের নেতিবাচক অপপ্রচারের বিষয়টি তুলে ধরে মজার ছলেই ঝাং জানান, ইউএফসি কিংবা এমএমএর খাঁচায় লড়াইয়ে নামার চেয়ে বর্তমান সময়ে একজন ভালো বয়ফ্রেন্ড খুঁজে পাওয়া তাঁর জন্য অনেক বেশি কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনলাইনের অনেকেই বিভিন্ন সময় ঠাট্টা করে এমন মন্তব্য করেন যে, চ্যাম্পিয়ন এই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ালে তারা সবসময়ই শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভয়ে ভুগবেন।
পারিবারিক তরফ থেকে আসা চাপের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান যে, এই বছর থেকেই তাঁর মা-বাবা বিয়ের জন্য ভীষণভাবে তাগাদা দিচ্ছেন এবং চাপ সৃষ্টি করছেন।
উপযুক্ত পাত্রের খোঁজে তিনি অনেকগুলো ডেটিং ওয়েবসাইট ঘুরে দেখেছেন ঠিকই, কিন্তু এসব প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলতে হলে অবশ্যই নিজেদের আসল নাম ও পরিচয় দিয়ে নিবন্ধন করতে হয়।
প্রকৃত পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা কোনোভাবেই সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই তাঁকে ওই ওয়েবসাইটগুলো থেকে পিছিয়ে আসতে হয়েছে বলে সাক্ষাৎকারে তিনি জানান।
এখনো পর্যন্ত মনের মতো ভালোবাসার মানুষের সন্ধান তিনি পাননি তবে নিজের মনের আকাঙ্ক্ষার কথা তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন।
পছন্দের জীবনসঙ্গী কেমন হবে তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ঝাং বলেন যে, তাঁর হবু পতির ব্যক্তিত্ব অবশ্যই চমৎকার হতে হবে, সবার সঙ্গে সহজেই মিশে যাওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে এবং দেখতেও আকর্ষণীয় হতে হবে।
সংসারের দৈনন্দিন কাজকর্ম কিংবা গৃহস্থালির টুকিটাকি সামলানোর কাজে তিনি যে খুব একটা দক্ষ নন, তা হাসিমুখে স্বীকার করে ঝাং নিজের মতামত প্রকাশ করেন।
এমন একজন মানুষ তাঁর জীবনে প্রয়োজন যাঁর সঙ্গে তাঁর নিজস্ব দক্ষতার চমৎকার ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং ঘরের কাজে যিনি তাঁকে পরিপূর্ণভাবে সহযোগিতা করতে পারবেন।
জীবনসঙ্গী যদি অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী না হন কিংবা খুব বেশি অর্থ উপার্জন করতে না-ও পারেন, তবে কি তিনি সেই সম্পর্কের সম্পূর্ণ আর্থিক ও অন্যান্য দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেবেন?
এই প্রশ্নের জবাবে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে ঝাং ওয়েইলি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়ে দেন যে, তিনি অবশ্যই ওই মানুষের সমস্ত দায়িত্ব আনন্দের সঙ্গেই বহন করবেন।
এখন অব্দি চীনের কোনো পুরুষ তাঁকে সরাসরি প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার সাহস করেননি বলে তিনি জানান।
তবে কিছুদিন আগে একজন বিদেশি নাগরিক তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিলেও সাংস্কৃতিক দূরত্ব ও ভাষা না মেলার কারণে তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
এই সাক্ষাৎকারটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই চীনের সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ও ক্রীড়ামোদী মানুষ ঝাং ওয়েইলির ভেতরের কোমল হৃদয়ের উষ্ণ প্রশংসা করছেন।
খেলার রিংয়ে তাঁকে যতই আক্রমণাত্মক বা রূঢ় মনে হোক না কেন, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কতটা নরম মনের অধিকারী তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনার ঝড় উঠেছে।
অবশ্য শুধু ঝাং ওয়েইলি একা নন, চীনে তারকাখ্যাতি পাওয়া অনেক নারী ক্রীড়াবিদকেই বিবাহবাজারে প্রায়ই এমন জটিল সামাজিক ও পারিবারিক বাধার সম্মুখীন হতে দেখা যায়।
এর আগে ২০২১ সালের টোকিও অলিম্পিক গেমসে শটপুট প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয়ী চীনের আরেক কৃতি অ্যাথলেট গং লিজিয়াও গত বছর একটি সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছিলেন।
তিনি তখন জানিয়েছিলেন যে, কেবল সমাজকে দেখানোর উদ্দেশ্যে এবং সুন্দর ও আকর্ষণীয় রূপ পাওয়ার তাগিদে তিনি অন্তত পঁচিশ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করছেন।
পরিবার ও সমাজের তরফ থেকে নানা ধরনের চাপ থাকা সত্ত্বেও অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ঝাং ওয়েইলি আশা প্রকাশ করেছেন যে, রিংয়ের মতো তিনিও সঠিক সময়ে নিজের সঠিক জীবনসঙ্গী ঠিকই খুঁজে পাবেন।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর