নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর
রাজধানীতে গণপরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করতে ও শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে একটিমাত্র কোম্পানির অধীনে বাস চলাচলের নতুন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকার মোট ছয়টি রুটে নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির বাস নামানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। মূলত পরীক্ষামূলক ও প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক এবং অতিরিক্ত সচিব মোড. মশিউর রহমান এই বিষয়ে দৈনিক আজকের পত্রিকাকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজির সম্পূর্ণ ধারণাটি একবারে বা সূরুরতেই পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা বাস্তবসম্মত নয়। তবে সামগ্রিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা আরও যোগ করেন যে, পর্যায়ক্রমে এই পুরো ব্যবস্থাটি বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন নিয়মে বাস চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পর যদি কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দেয় কিংবা নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটে, তবে সেই পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি, বাসমালিকেরা তাদের নিজ নিজ দায়িত্বে কীভাবে নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখেন, সেটিও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এর আগে, ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ নামে একটি বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। সেই সময় ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত রুটে মোট ১৫৫টি বাস পরিচালনার পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এই কার্যক্রম চালুর সময় মাত্র ৫০টি বাস নিয়ে যাত্রা শুরু করতে বাধ্য হয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শুরু হওয়ার পর দেখা যায় যে, একই রুটে চলাচলকারী পূর্বের অন্যান্য কোম্পানির বাসগুলোর চলাচল কোনোভাবেই বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে নানামুখী অবকাঠামোগত ও পরিচালনাগত তীব্র সংকটের মুখে পড়ে এই উদ্যোগ। শেষ পর্যন্ত লোকসানের কবলে পড়ে একপর্যায়ে প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাস রুট রেশনালাইজেশনের আওতায় বর্তমানে সচল থাকা ৯৮টি রুটকে একত্রিত করে সেগুলোকে সমন্বয় করার কথা রয়েছে। এই সমন্বয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রুট সংখ্যা কমিয়ে মাত্র ৩২টিতে নামিয়ে আনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার কঠোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই পরিকল্পনার শুরুতে ঢাকার নির্ধারিত ছয়টি রুটে পুরোনো বাস দিয়েই কার্যক্রম চালানো হবে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো ই-টিকিটিং ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে না।
বিভিন্ন পরিবহনের বাসগুলোর মধ্যে চলমান অসুস্থ প্রতিযোগিতা, নির্ধারিত ভাড়ার হার নিয়ে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা এবং সামগ্রিক যাত্রীসেবার নিম্নমানের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর কতটা সমাধান এর মাধ্যমে করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে যথেষ্ট সংশয় ও প্রশ্ন রয়েছে।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর