ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বিয়েতে অস্বীকৃতি ও ওসির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 6, 2026 ইং
বিয়েতে অস্বীকৃতি ও ওসির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

বিয়ের ভুয়া আশ্বাসে এক তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখারুজ্জামানের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী তরুণী পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে দেওয়া অভিযোগে বিস্তারিত জানিয়ে দাবি করেছেন, পুলিশ কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পরিচিত বন্ধু সোহেলের ফ্ল্যাটে তাঁকে নিয়ে আসতেন। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে সম্পূর্ণ অমতে ও বলপ্রয়োগ করে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। এই ন্যক্কারজনক অপরাধমূলক কার্যক্রমে ওসির বন্ধু সোহেল প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল বলে জানা গেছে। সোহেল নিয়মিত ওই তরুণীকে ওসির কাছে উপস্থিত করার জন্য ডেকে নিয়ে যেত এবং ওসির অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুবিধার্থে নিজের বাসাটিকে নিরাপদ আশ্রয় বা আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ করে দিত।

ভুক্তভোগী নারী আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার একপর্যায়ে তিনি অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইফতেখারকে বিয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাপ সৃষ্টি করেন। তখন ওসি ইফতেখার তাঁকে আরও পাঁচ বছর কালক্ষেপণ বা অপেক্ষা করার অদ্ভুত অজুহাত দেখান। সর্বশেষ গত কিছুদিন আগে তরুণীটি বিয়ের দাবি তুললে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তা একেবারে মানতে অস্বীকৃতি জানান।

এই সম্পর্ক ও ঘটনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে পেরে অভিযুক্ত ওসি ইফতেখারের বাবা সরাসরি ওই তরুণীকে ফোন করেন। টেলিফোনে ওসির বাবা ভুক্তভোগী তরুণী ও তাঁর পরিবারের চরম অর্থনৈতিক দৈন্যদশা এবং অসচ্ছলতার বিষয় তুলে ধরে নানা কটূক্তি ও চরম অপমানজনক কথাবার্তা বলেন। বয়োজ্যেষ্ঠ ওই ব্যক্তির এমন নিচ ও দুর্ব্যবহারের তীব্র প্রতিবাদ জানান ভুক্তভোগী নারী। প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ইফতেখার নিজে ওই তরুণীকে টেলিফোনে অত্যন্ত অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পাশাপাশি তাঁকে ভয়াবহ মানসিক নির্যাতন ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় গত ১১ সেপ্টেম্বর, যখন অভিযুক্ত ওসি নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের বন্ধু সোহেল এবং তাঁর এক কথিত আংকেলকে ভুক্তভোগীর নিজ বাসায় পাঠান। তারা ওই তরুণীর বাসায় গিয়ে তাঁকে চরম মাত্রায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে বলপ্রয়োগ করে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর মোবাইলে সংরক্ষিত ওসির বিরুদ্ধে থাকা সব ধরনের কল রেকর্ড এবং মেসেজ বা বার্তা চিরতরে মুছে বা ডিলিট করে দেওয়া হয়।

বর্তমানে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইফতেখার এবং তাঁর অপরাধের সহযোগী সোহেল যেকোনো মুহূর্তে নিজেদের প্রশাসনিক ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে ওই নারী ও তাঁর পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়াও ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন মিথ্যা ও সাজানো মামলায় জড়িয়ে আইনি ঝামেলায় ফেলে দিতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করার পর থেকেই অভিযুক্ত ওসি ইফতেখার হোসেন বাদী ও তাঁর পুরো পরিবারকে লাগাতার নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছেন। বর্তমানে চরম আতঙ্ক ও ভয়ের মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের এবং এই ভয়ের কারণে তাঁরা ঘর থেকে বাইরে বের হতেও পারছেন না। পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এর সঠিক বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনীত এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত ওসি মো. ইফতেখার হোসেন সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন যে তাঁর বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগের প্রতিটি কথাই সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

অন্যদিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান গণমাধ্যমকে জানান, এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ তাঁদের হাতে এসে পৌঁছেছে। পুরো বিষয়টি বর্তমানে গুরুত্বসহকারে তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগটি পাওয়ার পরপরই এ বিষয়ে তদন্তের জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিলেই সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রমজানে ১০ পণ্যের আমদানিতে বিশেষ ছাড় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

রমজানে ১০ পণ্যের আমদানিতে বিশেষ ছাড় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক