ঢাকা | বঙ্গাব্দ

স্লিম শরীর হলেও হতে পারে প্রিডায়াবেটিস, সতর্কবার্তা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 7, 2026 ইং
স্লিম শরীর হলেও হতে পারে প্রিডায়াবেটিস, সতর্কবার্তা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

শারীরিক কসরতের স্বল্পতা প্রিডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অলস জীবনযাপন ও দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে থাকার অভ্যাস এবং শরীরচর্চার অনুপস্থিতির ফলে দেহের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা হারাতে পারে। এর প্রভাবে রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়।

রক্তচাপের আধিক্য এবং রক্তে লিপিডের তারতম্য মেটাবলিক জটিলতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা অস্বাভাবিক থাকলে তা বিপাক ক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায়, যা প্রিডায়াবেটিসের শঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

সাধারণত প্রিডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ প্রকাশ পায় না। এই কারণে বহু মানুষ নিজ দেহে স্বাভাবিকের তুলনায় উচ্চমাত্রার শর্করা উপস্থিত থাকার বিষয়টি টেরই পান না। বাহ্যিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে হলেও তাদের ভেতর ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা বিদ্যমান থাকতে পারে।

পরিবারে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে, উদর অঞ্চলে মেদ জমলে, শরীরচর্চা বা কসত কম হলে কিংবা রক্তচাপ ও লিপিডের জটিলতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্লাড সুগার টেস্ট করানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রিডায়াবেটিসের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চিকিৎসকরা নির্দিষ্ট কিছু প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার সাহায্য নেন। এই পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে রোগীর শারীরিক অবস্থার সঠিক চিত্রটি চিকিৎসকদের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রথমত, ফাস্টিং ব্লাড সুগার টেস্ট করা হয়, যেখানে দীর্ঘ সময় খাদ্যগ্রহণ থেকে বিরত থাকার পর রক্তে গ্লুকোজের উপস্থিতি মাপা হয়।

দ্বিতীয়ত, এইচবিএ১সি টেস্টের মাধ্যমে বিগত দুই থেকে তিন মাসের রক্তে শর্করার গড় হিসাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়।

তৃতীয়ত, ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট সম্পন্ন করা হয়, যেখানে নির্দিষ্ট মাত্রার গ্লুকোজযুক্ত পানীয় গ্রহণের পর রক্তে শর্করার তারতম্য পরীক্ষা করা হয়। এর সাহায্যে শরীর গ্লুকোজের মাত্রা কতটা দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিচ্ছে তা বোঝা যায়।

প্রিডায়াবেটিসের আশঙ্কা কমাতে নিয়মিত পদচারণা এবং অন্যান্য কায়িক পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। ভাত কিংবা রুটির মতো শর্করা জাতীয় খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ডাল, ডিম, মাছ ও বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদানের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

মিষ্টিযুক্ত পানীয় এবং অতিরিক্ত শর্করা বা চিনি গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে আনতে হবে। একটানা দীর্ঘসময় নিষ্ক্রিয়ভাবে বসে থাকার অভ্যাস ত্যাগ করে নির্দিষ্ট সময় পরপর উঠে একটু হেঁটে চলা উচিত।

দেহের ওজন আদর্শ সীমার মধ্যে থাকলেও প্রত্যেক মানুষের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা একান্ত অপরিহার্য। তবে এটি সবসময় মনে রাখা দরকার যে কেবল বাহ্যিক ওজন দেখে প্রিডায়াবেটিসের মতো জটিলতার ঝুঁকি নিরূপণ করা সম্ভব নয়। তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করানোই রোগ নির্ণয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং কার্যকর পন্থা বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

দিনাজপুরের রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের পুষ্টিবিদ লিনা আকতার এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন। তাঁর মতে, শরীরের আকৃতি স্লিম বা পাতলা হলেও প্রিডায়াবেটিসের মতো বিপাকীয় ঝুঁকি যেকোনো সময় বাসা বাঁধতে পারে।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিইউপি আইন বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থী সহকারী জজ পদে নির্বাচি??

বিইউপি আইন বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থী সহকারী জজ পদে নির্বাচি??