ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ইউরোপের ৭ বিমানে বোমা হামলার হুমকি, বিভিন্ন স্থানে জরুরি সতর্কতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 4, 2026 ইং
ইউরোপের ৭ বিমানে বোমা হামলার হুমকি, বিভিন্ন স্থানে জরুরি সতর্কতা ছবির ক্যাপশন:
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্ত কণ্ঠস্বর

ইউরোপের আকাশসীমায় চলাচলকারী সাতটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে ভয়াবহ বোমা হামলার হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক পরিস্থিতিতে একাধিক দেশের বিমানবন্দরগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়। পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশ অভিমুখে যাত্রা করা দুটি ফ্লাইটও এই হুমকির কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রভাবিত হয়েছে।

প্রভাবিত বিমান দুটির একটি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সেটি নির্ধারিত ওয়ারশর শোপেন বিমানবন্দরের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত ছোট মডলিন বিমানবন্দরে জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করে। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার জেরে মডলিন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে কিছু সময়ের জন্য তাদের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত রাখে।

বুলগেরিয়ার পরিবহনমন্ত্রী জর্জি পিভ গণমাধ্যমকে জানান যে ইতালির বার্গামো এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন থেকে সোফিয়াগামী দুটি ফ্লাইটেও বোমা হামলার হুমকি এসেছে। বিমানগুলো নিরাপদে মাটিতে নামার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালায়। তবে সৌভাগ্যবশত তল্লাশির সময় কোনো ধরনের বিস্ফোরকদ্রব্য বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।

বুলগেরিয়ার সীমান্ত পুলিশ জানিয়েছে যে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা বেজে ৩৫ মিনিটে তাদের কাছে একটি ই-মেইল আসে। ওই ইলেকট্রনিক বার্তায় বার্গামো থেকে ছেড়ে আসা উড়োজাহাজে অস্থায়ী বিস্ফোরক যন্ত্র লুকিয়ে রাখার কথা বলা হয়েছিল। একই ই-মেইলে ডাবলিন থেকে সোফিয়া অভিমুখী অপর বিমানটির বিরুদ্ধেও সুনির্দিষ্টভাবে একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

গোটা ঘটনাপ্রবাহকে যুক্তরাজ্য সরকার অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে বিশিষ্ট উড়োজাহাজ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ পল ম্যাসনের ভিন্ন একটি পর্যবেক্ষণ রয়েছে। তার মতে, বিভিন্ন এয়ারলাইনসকে লক্ষ্য করে যদি বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে এমন হুমকি দেওয়া হয়, তবে এর পেছনে কোনো ব্যক্তিবিশেষ বা সংঘবদ্ধ চক্রের সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা থাকতে পারে।

এই ধরনের নাশকতার হুমকির মাধ্যমে মূলত আন্তর্জাতিক আকাশপথের স্বাভাবিক চলাচল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করাই অপরাধীদের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধরনের যোগসূত্র খুঁজে পায়নি সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ।

সাবেক অভিজ্ঞ পাইলট ও খ্যাতিমান উড়োজাহাজ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মার্কো চ্যান স্পষ্ট করে জানান যে বোমা হামলার প্রতিটি সতর্কবার্তাকে সবসময় প্রকৃত হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করা বাধ্যতামূলক। যতক্ষণ না পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তদন্তে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত প্রটোকল অনুযায়ী সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়।

জরুরি এমন পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজের ভেতরে দায়িত্বরত ক্রুরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শৌচাগার, খাবার প্রস্তুতের জায়গা এবং মালপত্র রাখার স্থানগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেন। তবে নিয়মানুযায়ী কোনো সন্দেহজনক বস্তু নিজ দায়িত্বে নাড়াচাড়া করা থেকে বিরত থাকেন কর্মীরা।

নিরাপত্তা প্রটোকলের অংশ হিসেবে বিমানটি নিরাপদ ভূমিতে নামার পর সেটিকে অন্য বিমানগুলো থেকে দূরে নির্দিষ্ট একটি নিরিবিলি স্থানে রাখা হয়। এরপর সমস্ত যাত্রীকে সুশৃঙ্খলভাবে নিচে নামিয়ে এনে পুলিশ বাহিনী ও বিশেষজ্ঞ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে।

এর আগে গত সোমবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনের লুটন বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া উইজ এয়ারের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটও একই ধরনের হুমকির মুখে পড়ে। বোমা হামলার ভীতি প্রদর্শনের পর ফ্লাইটটি হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে গিয়ে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।

পড়তি ও বিপজ্জনক সেই মুহূর্তটিতে হাঙ্গেরির একটি সামরিক যুদ্ধবিমান আকাশে উড়োজাহাজটিকে পাহারা দিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে আসে। তবে পরবর্তীতে সেই বিমানেও ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা বিপদের উপাদান পাওয়া যায়নি।

সূত্র: আজকের পত্রিকা


নিউজটি পোস্ট করেছেন : জাতীয় দৈনিক মুক্ত কণ্ঠস্বর

কমেন্ট বক্স
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আক্রমণ ঠেকাতে প্রস্তুত তেহরান

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আক্রমণ ঠেকাতে প্রস্তুত তেহরান